গ্রীষ্মকালে স্ট্রোকের ঝুঁকি কেন বাড়ে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের মানবদেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া, পরিবেশগত তাপমাত্রা এবং শারীরিক ভারসাম্যের ওপর প্রভাব বিবেচনায় নিতে হয়। উচ্চ তাপমাত্রায় শরীর অতিরিক্ত ঘামার ফলে পানিশূন্যতা ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়, যা রক্ত ঘন করে তোলে এবং রক্তনালিতে জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ায়—এই অবস্থাই ischemic stroke-এর ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি, অতিরিক্ত গরমে রক্তচাপের ওঠানামা ও হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে, যা hemorrhagic stroke-এর সম্ভাবনাও বাড়ায়। 

গরমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কেন বাড়ে?

গ্রীষ্মকালীন পরিবেশে শরীরের ওপর যেসব পরিবর্তন ঘটে, তা সরাসরি মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ ও স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে। নিচে প্রতিটি কারণ ব্যাখ্যা করা হলো:

গরমে শরীরের ভেতরে যেসব পরিবর্তন হয়: উচ্চ তাপে শরীর তার স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘামের মাধ্যমে অতিরিক্ত জলীয় অংশ হারায় যার ফলে শরীরে ডিহাইড্রেশন হয়, যা রক্তকে ঘন করে তোলে এবং রক্তপ্রবাহ গতি কমে যায়। ঘন রক্তের কারণে ছোট ছোট রক্তনালিতে জমাট বাঁধার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা ischemic stroke সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত গরমের কারণে সিম্প্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র প্রতিক্রিয়া দেখায় রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যায়, যা সেরিব্রাল ব্লাড ফ্লো বা মস্তিষ্কের রক্তচলাচলে ব্যাঘাত ঘটায় এবং hemorrhagic stroke ঘটার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

ইলেক্ট্রোলাইট ইম্ব্যালান্স: অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে বিপুল পরিমাণ সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্লোরাইড জাতীয় ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। ইলেক্ট্রোলাইট ইম্ব্যালেন্স হলে স্নায়ুবিক সংকেত বাধা পায়, যা ব্রেইন স্টেমে রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণকে বাধা প্রদান করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে পটাশিয়ামের ঘাটতি কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যা থেকে কার্ডিও-এম্বোলিক স্ট্রোক হতে পারে।

হিট স্ট্রোক আর ব্রেইন স্ট্রোক – পার্থক্য কোথায়?:  Heat Stroke এবং Brain Stroke—দুইটি আলাদা রোগ হলেও গ্রীষ্মকালে একটির ঝুঁকি অপরটির জন্য সহায়ক হতে পারে। Heat Stroke হলো এমন এক ধরনের শারীরিক অবস্থা, যখন অতিরিক্ত গরমের কারণে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হয়ে যায়, আর এতে করে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যেতে শুরু করে। যদি এই অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা না হয়, তবে এটি hypoperfusion ও vascular rupture ঘটিয়ে hemorrhagic stroke-এ রূপ নিতে পারে (Leon & Bouchama, 2015)। দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করা বা ফুটপাতে থাকা মানুষদের শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, যার ফলে অনেক সময় তারা হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়।

গ্রীষ্মকালে যে অভ্যাসগুলো স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়:  বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ এখনো গরমের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করেন না। অনেকে দিনের ব্যস্ততায় বা রোজার সময় পানিশূন্যতায় ভোগেন। এ ছাড়া কৃষি ও নির্মাণশ্রমিকদের দুপুরের প্রচণ্ড রোদে কাজ করতে হয়, যেখানে মাথা ঢাকার মতো সুরক্ষা ব্যবস্থাও থাকে না। এই অবস্থায় core temperature বেড়ে গিয়ে হিট স্ট্রোক এবং পরবর্তীতে ব্রেইন স্ট্রোক হতে পারে। অনেকের মধ্যেই উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস রয়েছে কিন্তু তারা নিয়মিত ওষুধ খায় না। গ্রীষ্মে এসব রোগ আরও বেড়ে যায়, যার ফলে মস্তিষ্কের রক্তনালী দুর্বল হয়ে যায় এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 

উপসর্গ ও প্রাথমিক চিকিৎসা

স্ট্রোক একটি জরুরি অবস্থা, যার ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষন চিনে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা না গেলে রোগীর জীবন ও চলাফেরার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে তাপদাহ ও শরীরের পানিশূন্যতা এই লক্ষণগুলো আরও জটিলভাবে প্রকাশ পেতে পারে।

গরমে স্ট্রোকের ক্লিনিক্যাল লক্ষণ  

হঠাৎ হাত-পা অবশ: স্ট্রোকের সবচেয়ে সাধারণ ও তাৎক্ষণিক লক্ষণ হলো শরীরের একপাশ (ডান বা বাম) হঠাৎ অবশ হয়ে যাওয়া। এটি মস্তিষ্কের বিপরীত পাশের মটর কর্টেক্সে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে হয়। গরমে রক্ত ঘন হয়ে গেলে ছোট ধমনীতে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয় এবং এই ধরনের অবশতা দেখা দেয় (Saver et al., 2009)। 

মাথা ঘোরা বা চোখে ঝাপসা দেখা:  যদি কেউ স্ট্রোকের শিকার হয়, তবে দৃষ্টিভ্রম, ভারসাম্যহীনতা বা মাথা ঘোরার মত সমস্যা হতে পারে। গরমে তাপের প্রভাবে রক্তচাপ হঠাৎ কমে গেলে posterior circulation-এ hypoperfusion ঘটতে পারে, যার ফলে এই লক্ষণগুলো দেখা দেয়। 

কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অস্পষ্টতা: Broca’s বা Wernicke’s area-তে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হলে রোগীর কথা জড়িয়ে যায় অথবা অস্পষ্ট হয়ে যায়। তিনি নিজের কথা গুছিয়ে বলতে পারেন না কিংবা অন্যের কথা বুঝতেও ব্যর্থ হন—এটি একটি classic sign যা স্ট্রোকের সূচনাতেই দেখা দিতে পারে। গরমের সময় শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি ও মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের ব্যাঘাত স্ট্রোকের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।

একপাশে মুখ বেঁকে যাওয়া: Facial palsy, বিশেষত unilateral lower motor neuron type facial weakness (মুখের একপাশ ঝুলে যাওয়া), স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সাধারণ। এটা cranial nerve VII-এর ওপর ischemic প্রভাবের ফলাফল। গরমে হিট-স্ট্রেসজনিত vasospasm বা রক্তনালীর ব্লকেজ থাকলে তা ঘটতে পারে।

অজ্ঞান হয়ে পড়া:  গভীর hypoperfusion, হার্ট রেটের ভারসাম্যহীনতা এবং cerebellar stroke হলে রোগী হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারেন। অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে মস্তিষ্ক তার রেগুলেটরি ফাংশন হারিয়ে ফেলে, যার ফল হতে পারে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। 

জরুরি করণীয় (FAST Test)

FAST একটি কার্যকরী পদ্ধতি যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষও স্ট্রোকের লক্ষণ সহজে শনাক্ত করতে পারেন:

  • F (Face): রোগীকে হাসতে বলুন—মুখের একপাশ ঝুলে আছে কি না দেখুন।
  • A (Arms): দুই হাত একসাথে তুলতে বলুন—এক হাত নিচে পড়ে যাচ্ছে কি না দেখুন।
  • S (Speech): একটি সহজ বাক্য বলতে বলুন—তা কি পরিষ্কার, নাকি জড়িয়ে যাচ্ছে?
  • T (Time): যদি উপরোক্ত লক্ষণগুলোর যেকোনোটি থাকে, অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

Golden Hour হলো প্রথম ১ ঘণ্টা, যেখানে রোগীকে যদি দ্রুত চিকিৎসা (বিশেষ করে থ্রম্বোলাইসিস) দেওয়া যায়, তবে মস্তিষ্কের কোষগুলোকে স্থায়ী ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। বাংলাদেশের মতো দেশে এখনও স্ট্রোক সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতা না থাকায় বহু রোগী লক্ষণ বুঝে উঠতে না পেরে দেরিতে হাসপাতালে আসে, ফলে চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। তাই FAST টেস্ট সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই গ্রীষ্মকালীন স্ট্রোক ব্যবস্থাপনার অন্যতম মূল কৌশল।

চিকিৎসা পদ্ধতি

গ্রীষ্মকালে স্ট্রোক হলে রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে, তাই চিকিৎসা শুরু করতে হয় অত্যন্ত দ্রুত। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মস্তিষ্কের কোষগুলো ৫ মিনিটের মধ্যেই অক্সিজেনের অভাবে মারা যেতে শুরু করে । নিচে হাসপাতালভিত্তিক স্ট্রোক চিকিৎসার ধাপ ও গ্রীষ্মজনিত তাপঘাতের চিকিৎসার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।

হাসপাতালে চিকিৎসার 

CT/MRI: রোগী হাসপাতালে আসামাত্রই প্রথম করণীয় হলো ব্রেইনের নন-কনট্রাস্ট CT স্ক্যান বা MRI করা, যাতে বোঝা যায় স্ট্রোকটি Ischemic (রক্ত চলাচল বন্ধ) নাকি Hemorrhagic (রক্তনালী ফেটে রক্তপাত)। এর ওপর নির্ভর করেই চিকিৎসার ধরন নির্ধারিত হয়।

Thrombolytic therapy (rt-PA) (ischemic stroke):  যদি CT স্ক্যানে দেখা যায় যে স্ট্রোক Ischemic, তাহলে উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে ৪.৫ ঘণ্টার মধ্যে recombinant tissue plasminogen activator (rt-PA) ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়, যা জমাট রক্ত গলিয়ে দেয় এবং বন্ধ রক্তপ্রবাহ পুনরায় সচল করে। 

IV fluid: স্ট্রোক রোগীর শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ এবং সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। গ্রীষ্মে ঘামের কারণে এই ভারসাম্য নষ্ট হলে, IV Normal Saline বা 5% Dextrose ব্যবহার করা হয়।

Blood pressure control:  উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় স্ট্রোকের মূল কারণ হতে পারে। ইস্কেমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় রক্তচাপ হঠাৎ কমে গেল মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ আরও কমে যেতে পারে, তাই এটি ধীরে ও সতর্কভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অন্যদিকে, হেমোরেজিক স্ট্রোক হলে রক্তপাত যাতে না বাড়ে, সেজন্য দ্রুত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে (≤140 mmHg) আনা প্রয়োজন হয়।

Antiplatelet / Anticoagulant therapy:  Ischemic stroke-এ Aspirin বা Clopidogrel জাতীয় Antiplatelet ও Cardioembolic stroke-এ Anticoagulant (যেমন Warfarin) ব্যবহার করা হয়। 

ICU পর্যবেক্ষণ ও supportive therapy: স্ট্রোকের তীব্র অবস্থায় রোগীকে ICU বা স্ট্রোক ইউনিটে ভর্তি রেখে নিউরোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। এসময় রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস, মূত্রনালী, হৃদযন্ত্র, রক্তে অক্সিজেন লেভেল ইত্যাদি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রয়োজনে খাবার দেওয়ার জন্য Ryle’s tube, খিঁচুনির জন্য anticonvulsant এবং অক্সিজেন থেরাপিও দেওয়া হয়।

হিট স্ট্রোক হলে করণীও 

শরীর ঠাণ্ডা করা: Heat stroke সন্দেহ হলে রোগীকে দ্রুত ঠাণ্ডা পরিবেশে এনে cooling blanket, ice packs বা IV chilled saline দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা কমানো হয়। শরীরের তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম হলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।

ইলেক্ট্রোলাইট: গ্রীষ্মে ঘাম ও ডিহাইড্রেশনের কারণে ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট হয়। এজন্য মুখে ORS অথবা Normal Saline/ Ringer’s Lactate ইঞ্জেক্টের মাধ্যমে ইলেক্ট্রলাইট ব্যালেন্স করা হয়। 

মাল্টি অর্গান সাপোর্ট: Heat Stroke-এর ক্ষেত্রে শুধু মস্তিষ্ক নয়, কিডনি, লিভার, হার্ট এবং ফুসফুস সবই ঝুঁকিতে থাকে। তাই রোগীর রক্তের Creatinine, ALT, AST, Electrolyte Panel, Arterial Blood Gas (ABG) ইত্যাদি নিয়মিত মনিটর করা প্রয়োজন।

ASPC Manipulation Therapy-তে স্ট্রোক পুনর্বাসন পদ্ধতি

স্ট্রোক থেকে বেঁচে যাওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ চলাফেরা, কথা বলা, খাওয়া-দাওয়া এমনকি দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ কাজেও অক্ষম হয়ে পড়েন। তাই স্ট্রোকের চিকিৎসা শুধু হাসপাতালে সীমাবদ্ধ নয়—প্রকৃত অর্থে রোগীর জীবন ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয় পুনর্বাসনের মাধ্যমে। বাংলাদেশে ASPC Manipulation Therapy Center (U-64 Nurjahan Road Mohammodpur, Dhaka-1207) হলো একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, যারা স্ট্রোক রোগীদের জন্য কার্যকর পুনর্বাসন চিকিৎসা প্রদান করে থাকে। এখানে ব্যবহৃত হয় ফিজিওথেরাপি, ম্যনিপুলেশন থেরাপি, নিউরোমাসকুলার রি-এডুকেশন, স্পিচ থেরাপি এবং মানসিক পুনর্বাসনের সমন্বিত পদ্ধতি—যা বিশ্বের আধুনিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। ASPC Manipulation Therapy Center স্ট্রোক রোগীদের পুনর্বাসনে “Structural Diagnosis and Management (SDM)” প্রোটকলের ভিত্তিতে চিকিৎসা করে যা রোগীর মাস্কুলেস্কেলেটাল ও নিউরলজিক্যাল ডেভেলপমেন্টে অত্যন্ত কার্যকরী। 

হিট স্ট্রোক এড়ানোর উপায়

হিট স্ট্রোক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতন জীবনযাপন ও ঝুঁকির পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ। প্রচণ্ড গরমে শরীরের পানিশূন্যতা ও ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা স্ট্রোকের অন্যতম কারণ হওয়ায় দিনে অন্তত ২.৫–৩ লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা জরুরি (WHO, 2020)। দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত রোদের তীব্রতা বেশি থাকে, তাই এই সময়ে বাইরে বের হওয়া এড়ানো উচিত। যদি বের হতেই হয়, তাহলে অবশ্যই মাথা ঢেকে, হালকা ও সুতির কাপড় পরে রোদে চলাফেরা করতে হবে, যা শরীরের অতিরিক্ত তাপ শোষণ থেকে রক্ষা করে। স্ট্রোকের বড় ঝুঁকি যেমন উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস – এগুলো গরমে আরও খারাপ হতে পারে, তাই সপ্তাহে অন্তত একবার রক্তচাপ ও ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা উচিত। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক প্রশান্তি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে, যা স্ট্রোক প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখে। তাছাড়া, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য রক্তনালীর ক্ষতি করে স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুণ করে দেয় – তাই এসব সম্পূর্ণ বর্জন করাই বুদ্ধিমানের কাজ ।

উপসংহার 

গবেষণায় দেখা গেছে, গরমে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া, পানিশূন্যতা ও রক্তচাপের অস্থিতিশীলতা স্ট্রোকের সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় (Basu & Samet, 2010)। তাই সময়মতো লক্ষণ শনাক্ত করে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া এবং চিকিৎসা-পরবর্তী মানসম্পন্ন পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই এই ঝুঁকি মোকাবেলার মূল চাবিকাঠি। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ASPC-এর মতো আধুনিক থেরাপি সেন্টারগুলো স্ট্রোক রোগীদের জন্য পুনর্বাসন সেবা দিয়ে থাকে, যা রোগীকে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সহায়ক। তবে শুধুমাত্র ব্যক্তি বা পরিবার নয়—এই সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে প্রতিটি মানুষ গরমের মৌসুমে সচেতন থাকে। 

তথ্যসূত্র