fbpx

মাংশ পেশীতে টান বা খিল ধরা বা খিচুনী (মাসল ক্রাম্প) কি?

মাংশ পেশির খিল ধরা বা মাসল ক্রাম্প হচ্ছে মাংশ পেশির বা পেশি সমস্টির হঠাৎ অনৈচ্ছিক সংকোচন। যখন মাংশ পেশি অতিরিক্ত কাজ করে বা অস্বভাবিক পজিশনে থাকে। মাসল ক্রাম্প সাধারনত সল্প সময়ের জন্য হয়ে থাকে কিন্তু কখনও এটা দীর্ঘস্থায়ী হয়। পেশির খিল ধরার কারন অনেক ধরনের হয়ে থাকে তার মধ্যে পানি শূন্যতা, রক্ত শূন্যতা অস্বাভাবিক ভঙ্গি বা পজিশনে দীর্ঘক্ষন থাকা, নির্দিষ্ট কিছু কেমিকেল এর সংর্স্পশে থাকা ইত্যাদি অন্যতম।

কারণ

চিকিৎসা বিদ্যা অনুযায়ী মাসল ক্রাম্প বিষয়টি এখনো সুস্পস্ট নয় কিন্তু এটা মস্তিষ্ক ও মাংশ পেশির মধ্যেকার সংকেত জনিত শর্ট সার্কিট এর কারনে হতে পারে। মাসলে রক্ত প্রবাহ, অক্সিজেন ও পুষ্টির সরবরাহের বিঘ্ন জনিত কারনে পেশিত খিল ধরতে পারে। এ সমস্ত কারনে পেশিতে ল্যাক্টিক এসিড তৈরি হয় ও জমতে থাকে ফলে পেশিতে অস্বভাবিক সংকোচন হয় তাছাড়াও ইলেক্ট্রোলাইট (লবন পানি) ভাসম্যহীনতা এনার্জি ক্রাইসিস পানি শূন্যতা ও অসামঞ্জস্যপূর্ন স্ট্রোচিং বা টানার কারনেও পেশিতে খিল ধরতে পারে।

রোগ নির্নয়

কি ভাবে বুঝবো পেশিতে খিল বা টান ধরেছে? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পেশির খিল ধরা ক্ষতিকর নয় এবং এটার জন্য মেডিকেলের চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। তারপরও একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ, যদিও দীর্ঘ সময় ধরে তীব্রতা থাকে এবং স্টেচিং ব্যায়ামে উন্নতি না হয় শারীরিক পরীক্ষা ডাক্তারকে পেশীর খিল ধরার কান বের করতে সাহায্য করে। ডাক্তার আপনাকে নিম্নি লিখিত প্রশ্নু গুলো করতে পারে।

  • আপনি কি প্রায়ই পেশির খিল ধরা রোগে ভোগেন?
  • কোথায় ব্যথা অনুভব হয়?
  • আপনি কি কোন ঔষধ খাচ্ছেন?
  • আপনি কি মদ্য পান করেন?
  • আপনি কি ভাবে ব্যয়াম করেন?
  • আপনি কি প্রতিদিন পর্যপ্ত পানিয় পান করেন?

থাইরয়েড ও কিডনীর কার্যকরীতা, পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মাত্রা জানার জন্য রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রেগনিন্সি টেস্ট এর প্রয়োজন হতে পারে।

মাসল/পেশির কার্যকারীতা ও অন্যান্য অস্বাভাবিকতা জানার জন্য ডাক্তারে পেশির পরীক্ষা ইলেক্ট্রোমাইওগ্রাম (ইএমজি) পরীক্ষা করার জন্য আদেশ দিতে পারেন। এক্ষেত্রে (এমআরআই) ও উপকারী।

মাংশ পেশির খিলধরার চিকিৎসার জন্য কি করা যেতে পারে?

  • যখনই আপনি পেশির খিল ধরা বুঝবেন তাড়াতারি যথা সম্ভব পেশিটিকে সটান অবস্থায় রাখার চেষ্টা করুন এবং উষ্ণ বা ঠান্ডা তোয়ালে বা গামছা দিয়ে সেক দিন।
  • যদি আপনার কাধ মাসল (হাঁটুর নিচের পেশি) খিল ধরে তবে পায়ের পতাকে হাত দিয়ে ধরে উপরের দিকে এবং নিচের দিকে নিয়ে টান টান (ট্রেচ) করতে হবে।
  • ব্যথা কমানোর জন্য সহজ লভ্য এন্টি ইন ফ্লামেটরী ঐষধ খাওয়া যেতে পারে।
  • পেশির খিল ধরার জন্য যদি ঘুমের ব্যখাত ঘটে তবে ডাক্তারের কাছ থেকে মাসল রিল্যাক্সিং ঔষধ নিতে পারেন।
  • পেশি খিল ধরার সমস্ত উপসর্গ/লক্ষন থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে যদি এর পেছনের কারন গুলিকে নিয়ন্ত্রন করা যায়। ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের সল্পতা পেশির খিল ধরাকে বৃদ্ধি করতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার ডাক্তার আপনাকে সপ্লিমেন্ট নেওয়ার জন্য উপদেশ দিতে পারে।

পেশির খিল ধরা কি ভাবে প্রতিরোধ করা যায়

পেশির খিল ধরা বা টান প্রতিরোধ করা যায় নিম্নলিখিত বিষয় গুলো বজায় রাখার মাধ্যমে-

  • পর্যপ্ত পানি/পানিয় খাওয়।
  • ইলেক্ট্রলাইসৈ এর ভারসম্য রক্ষা করা।
  • ব্যায়ামের পরে শরীর থেকে ঝরে যাওয়া পানি পূরনের মাধ্যমে
  • পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহনের মাধ্যমে
  • মাংশ পেশি খিল ধরতে শুরু করলে কাজ বন্ধ করা বা কাজের চাপ কমিয়ে দেয়া।
  • নিয়মিত পেশির ট্রেচিং ব্যায়াম করা
  • সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ না করা।

মাংশপেশির টান একটি সাধারন বিষয় কিন্তু এটিকে প্রায় ভুল ভাবে বুঝা হয়ে থাকে। এর কারন গুলো চিকিৎসার মাধ্যমে এটাকে প্রতিরোধ করা সম্ভব। পানি সল্পতার দিকে খেয়াল করা এবং পর্যপ্ত ঘুমানো। সবারই মাসলের খিল ধরার লক্ষন সমূহ জানা উচিত এবং দ্রুত এর চিকিৎসা করা উচিত। কিছু মানুষের রাতে পেশিতে টান ধরে যারা অতিরিক্ত কাজ করে থাকে রাতে শোয়ার আগে পেশির ট্রেচিং ব্যয়াম (পেশি টান টান করা উচিত)

সর্বোপরি, স্বাস্থ্যকর সুষম খাবার, স্বাস্থ্যকর চর্বি আমিষ এবং কার্বোহাইড্রেট ধারন করে যা মাংশ পেশির খিল ধরা প্রতিরোধ করতে পারে।

Dr. Sapia Akter

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This field is required.

This field is required.

10 − 3 =

Call Now