fbpx

ডায়াগনস্টিক টেস্টিং

বেশিরভাগ দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং অনেক বাণিজ্যিক পরীক্ষাগারে ডেঙ্গু ডায়াগনস্টিক টেস্টিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়।

১। নিউক্লিক অ্যাসিড পরিবর্ধন পরীক্ষা

  • সন্দেহভাজন ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের পরীক্ষাগারে রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।
  • উপসর্গ শুরু হওয়ার ৭ দিন বা তার কম সময়ের মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করা সিরামগুলি নিউক্লিক অ্যাসিড পরিবর্ধনে পরীক্ষণ করা উচিত।
  • ইমিউনোসায়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু ননস্ট্রাকচারাল প্রোটিন-১ (এনএস-১) অ্যান্টিজেনের সাথে ভাইরাল জিনোমিক সিকোয়েন্স সনাক্ত করে অসুস্থতার প্রথম দিকে (জ্বর শুরু হওয়ার ≤7 দিন পরে) প্রাপ্ত একক অ্যাকিউট-ফেজ সিরাম নমুনা নিয়ে তা পরীক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিতকরণ করা যেতে পারে।
  • একটি একক ডায়াগনস্টিক নমুনায় এনএস-১ অ্যান্টিজেন দ্বারা ভাইরাসের উপস্থিতি সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্লিনিকাল এবং রোগীদের ভ্রমন ইতিহাসে ডেঙ্গু বহন করছে কি না তা পরীক্ষাগারে নিশ্চিতকরণ করা হয়।

২। সেরোলজিক পরীক্ষা

  • আইজিএম অ্যান্টিবডি পরীক্ষা দ্বারা অতিরিক্ত সংক্রমণ সনাক্ত করতে পারে এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ডায়াগনস্টিক টুল। জিকার মতো অন্যান্য ফ্ল্যাভিভাইরাসগুলির সাথে ক্রস-রিঅ্যাকটিভিটি ফলাফলগুলো অত্যন্ত জটিল এবং সংক্রমণের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করাও কঠিন।
  • এরপরে অসুস্থতায় (জ্বর শুরু হওয়ার ≥৪ দিন পরে) ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে আইজিএম ম্যাক-এলিসা-এর মাধ্যমে সনাক্ত করা যেতে পারে। জ্বর শুরু হওয়ার পর প্রথম সপ্তাহে উপস্থিত রোগীদের জন্য ডায়াগনস্টিক পরীক্ষায় ডেঙ্গু ভাইরাস (এনএস-১) এবং আইজিএম পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
  • জ্বর শুরু হওয়ার ১ সপ্তাহ পরে উপস্থিত রোগীদের জন্য আইজিএম সনাক্তকরণ সবচেয়ে কার্যকর।
  • পিআরএনটিএস অ-নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়াশীলতার কারণে সৃষ্ট মিথ্যা-পজিটিভ আইজিএম অ্যান্টিবডি ফলাফলগুলি সমাধান করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে সংক্রামক ভাইরাস সনাক্ত করতে সাহায্য করে।

৩। ক্রস-প্রতিক্রিয়াশীল ফ্ল্যাভিভাইরাস

  • অন্য সম্ভাব্য ক্রস-রিঅ্যাকটিভ ফ্ল্যাভিভাইরাসগুলি সঞ্চালিত হয় এমন জায়গায় সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ডেঙ্গু এবং অন্যান্য ফ্ল্যাভিভাইরাসগুলির জন্য আণবিক এবং সেরোলজিক ডায়াগনস্টিক উভয় পরীক্ষা করা উচিত।
  • অন্যান্য ফ্ল্যাভিভাইরাস যেমন ইয়েলো ফিভার বা জাপানিজ এনসেফালাইটিস দ্বারা সংক্রামিত বা টিকা নেওয়া লোকেরা ক্রস-রিঅ্যাকটিভ ফ্ল্যাভিভাইরাস অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে, যা মিথ্যা-পজিটিভ সেরোলজিক ডেঙ্গু ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার ফলাফল দেয়।

৪। আইজিজি অ্যান্টিবডি পরীক্ষা

  • একটি একক সিরাম নমুনায় এলিসা দ্বারা আইজিএম সনাক্তকরণ ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার জন্য উপযোগী নয় কারণ এটি ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমণের পরে সারা জীবনের জন্য সনাক্তযোগ্য থাকে।

আরও পড়ুনঃ ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ

মশা নিয়ন্ত্রণ করতে বাড়ির বাইরে বাড়ির ভিতরে যা করবেন

ক) বাড়ির বাইরে যা করবেন

১। যেখানে মশা ডিম পাড়ে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা পানি সরানঃ

  • সপ্তাহে একবার টায়ার, বালতি, প্ল্যান্টার, খেলনা, পুল, পাখির স্নান, ফুলের পটল সসার বা আবর্জনার পাত্রের মতো জল ধরে থাকা যে কোনও আইটেম খালি করুন এবং স্ক্রাব করুন, উল্টে দিন বা ঢেকে দিন বা ফেলে দিন। কেননা, মশা পানির কাছে ডিম পাড়ে।
  • জল রাখার পাত্রে (বালতি, সিস্টারন, রেইন ব্যারেল) শক্তভাবে ঢেকে রাখুন যাতে মশা ডিম পাড়ার জন্য ভিতরে ঢুকতে না পারে।
  • ঢাকনা ছাড়া পাত্রের জন্য, একটি প্রাপ্তবয়স্ক মশার চেয়ে ছোট গর্ত সহ তারের জাল ব্যবহার করুন।
  • গাছের গর্তগুলি পূরণ করুন যাতে সেগুলি জল দিয়ে ভরাট না হয়।
  • আপনার যদি সেপটিক ট্যাঙ্ক থাকে তবে ফাটল বা ফাঁক মেরামত করুন এবং খোলা ভেন্ট বা নদীর গভীরতানির্ণয় পাইপ আবরণ করুন যেন একটি প্রাপ্তবয়স্ক মশার চেয়ে গর্ত ছোট হয় এমন তারের জাল ব্যবহার করুন।

 ২। আপনার বাড়ির বাইরে মশার লার্ভা মেরে ফেলুনঃ

  • বৃহৎ জলাশয়গুলিকে চিকিত্সা করার জন্য লার্ভিসাইড ব্যবহার করুন যা পানীয়ের জন্য ব্যবহার করা হবে না এবং ঢেকে দেওয়া বা ডাম্প করা যাবে না।
  • লার্ভিসাইড ব্যবহার করার সময়, সর্বদা লেবেল নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন।

৩। আপনার বাড়ির বাইরে মশা মারুনঃ

  • প্রাপ্তবয়স্ক মশা যেখানে আশ্রয় নেয় সেখানে মশাগুলো মারতে আউটডোর অ্যাডাল্টিসাইড ব্যবহার করুন।
  • মশা অন্ধকার বা আর্দ্র জায়গায় যেমন প্যাটিও ফার্নিচারের নিচে বা কার্পোর্ট বা গ্যারেজের নিচে বিশ্রাম নেয়। কীটনাশক ব্যবহার করার সময়, সর্বদা লেবেল নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন।

খ) বাড়ির ভিতরে যা করবেন

১। আপনার বাড়ির বাইরে বা দূরে মশা রাখতে করতে পারেনঃ

  • জানালা এবং দরজা পর্দা ইনস্টল বা মেরামত এবং ব্যবহার।
  • গ্যারেজের দরজা সহ দরজা বন্ধ করুন। দরজা খোলা রেখে যাবেন না।
  • সম্ভব হলে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

২। আপনার বাড়ির ভিতরে মশা নিয়ন্ত্রণ করুন।

মশা অন্ধকার বা আর্দ্র জায়গায় যেমন সিঙ্কের নিচে, ঝরনা, পায়খানা, আসবাবের নিচে বা লন্ড্রি রুমে বিশ্রাম নেয়। বাইরে থেকে আপনার ঘরে প্রবেশ করা মশা বাড়ির ভিতরে ডিম পাড়া শুরু করতে পারে। নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিনঃ

  • মশার ডিম এবং লার্ভা অপসারণের জন্য সপ্তাহে একবার, খালি করুন এবং স্ক্রাব করুন, উল্টে দিন, ঢেকে দিন বা জল ধারণ করে এমন কোনও জিনিস যেমন ফুলদানি বা ফুলের পাত্রের সসারগুলিকে ফেলে দিন।
  • স্ক্রিন ইনস্টল ও মেরামত করার পরে এবং পাত্রে খালি ও স্ক্রাব করার পরেও যদি আপনার বাড়িতে মশা থাকে তাহলে একটি ইনডোর কীটনাশক ব্যবহার করুন।
  • একটি ইনডোর ইনসেক্ট স্প্রে বা ফগার মশাকে মেরে ফেলবে এবং মশাগুলো যাখানে আশ্রয় নেবে সেখানে স্প্রে করবে।
  • এই পণ্যগুলি দ্রুত কাজ করে কিন্তু পুনরায় প্রয়োগ করার প্রয়োজন হতে পারে।
  • সর্বদা লেবেল নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন।
  • শুধুমাত্র একটি ইনডোর কীটনাশক ব্যবহার করলে আপনার বাড়ি মশা মুক্ত থাকবে না।
  • আপনার বাড়ির অভ্যন্তরের এলাকার চিকিত্সা বা মেরামত করার জন্য একটি কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ পেশাদার নিয়োগ করুন।
ডেঙ্গু হলে করণীয় কি

ডেঙ্গু জ্বর হলে কী খাবেন আর কী খাবেন না?

ডেঙ্গু জ্বর এডিস মশার কারণে হয়। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কোনো ব্যক্তিকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এবার এই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে সেই মশাটি ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে।

ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দিলে অতি দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। তবে ডেঙ্গু জ্বর হলে আপনাকে খাবারের প্রতিও বিশেষভাবে মনযোগী হতে হবে। বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের সহায়তা করার জন্য কয়েটি খাবার খেতে পরামর্শ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে কয়েকটি খাবার এড়িয়ে যেতেও বলেছেন। দেখে নিন, কোন খাবারগুলো খাবেন আর কোন খাবারগুলো এড়িয়ে যাবেন-

আরও পড়ুনঃ ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে করনীয়

যে খাবারগুলো বেশি করে খাবেন

কমলাঃ কমলা ও কমলার রস ডেঙ্গু জ্বরে ভালো কাজে আসতে পারে। কারণ এটিতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিওক্সিডেন্ট। আর এই দুটি উপাদান ডেঙ্গু জ্বর নিয়ন্ত্রণে ভালো কাজ করে।

ডালিমঃ ডালিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন। সেই সঙ্গে এতে রয়েছে পরিমাণ মতো মিনারেল। যদি আপনি নিয়ম করে ডালিম খান তাহলে বেড়ে যাবে প্লেটলেটের সংখ্যা। এই উপকারী ফলটি খেলে ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভূতিও দূর হবে। প্রাচীন কাল থেকে এই ফলটি রোগ নিরাময়ের পথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ডাবের পানিঃ ডেঙ্গুর জ্বর হলে শরীরে তরল পদার্থের শূন্যতা সৃষ্টি হয়। সৃষ্টি হয় ডিহাইড্রেশন। এ সময় বেশি বেশি করে ডাবের পানি পান করলে উপকার পাওয়া যাবে। কেননা ডাবে রয়েছে ইলেক্ট্রোলাইটসের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি।

পেঁপে পাতার জুসঃ ডেঙ্গু জ্বর হলে রোগীর শরীরে কমে যেতে পারে প্লেটলেট। তাই এ সময় আপনার উপকার করতে পারে পেঁপে পাতা। পেঁপে পাতায় পাপাইন এবং কিমোপেইনের মতো এনজাইম সমৃদ্ধ যা হজমে সহায়তা করে। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি করেতে পারে প্লেটলেটের পরিমাণও। সেজন্য আপনাকে প্রতিদিন নিয়ম করে ৩০ এমএল পেঁপে পাতার তৈরি জুস খেতে হবে। আপনি ঘরে বসেই তৈরি করতে পারবেন এ জুস।

হলুদঃ ডেঙ্গু জ্বরে কাজে আসতে পারে হলুদও। এর জন্য আপনাকে এক গ্লাস দুধের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে পান করতে হবে। এটি আপনাকে অতি দ্রুত সুস্থ্য করে তুলবে।

মেথিঃ ডেঙ্গু জ্বর হলে কাজে আসবে মেথি। এটি আপনাকে অতি সহজে ঘুমিয়ে যেতে সহায়তা করেবে। সেই সঙ্গে সহয়তা করবে অতিরিক্তমাত্রার জ্বর কমিয়ে আনতে। তবে মেথি গ্রহণ করার পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরমার্শ করে নিতে হবে।

ব্রুকলিঃ ব্রুকলি হলো ভিটামিন কে’র একটি ভালো উত্স। অন্যদিকে ভিটামিন কে রক্তের প্লেটলেট বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খনিজ সমৃদ্ধ। যদি কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন; তাহলে অবশ্যই বেশি করে ব্রুকলি খাবেন।

পালংশাকঃ পালংশাকে প্রচুর পরিমাণে আইরন এবং ওমেগো-থ্রি ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। এটি আবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেতে সহায়তা করে। এই শাকটি বেশি করে গ্রহণ করলে অতি দ্রুত প্লেটলেট বৃদ্ধি পায়।

কিউইফলঃ কিউইফলটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে এটিতে পটাশিয়ামও রয়েছে। এই ফলটি বেশি খাওয়ার ফলে ইলেক্ট্রোলাইট স্তর এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ ফলটি খেলে লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুনঃ ডায়াবেটিস হলে কি কি সমস্যা হয়

ডেঙ্গু জ্বরের সময় যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলা উচিত

তৈলাক্ত ও ভাজা খাবারঃ ডেঙ্গু জ্বর হলে অবশ্যই তৈলাক্ত ও ভাজা খাবরগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। এই খাবারগুলো খেলে উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।

মসলাযুক্ত খাবারঃ ডেঙ্গু রোগীকে অবশ্যই মসলাযুক্ত খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। এই ধরনের খাবার বেশি করে খেলে পাকস্থলীর দেয়াল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ক্যাফিনযুক্ত পানীয়ঃ ডেঙ্গু হলে তরল খাবার বেশি করে খেতে হবে। সেই সঙ্গে ক্যাফিনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। এই খাবারগুলো হার্ট রেট বাড়িয়ে দিতে পারে। সেই সঙ্গে ক্লান্তি নিয়ে আসতে পারে।

ডেঙ্গু হলে করণীয় কি

ডেঙ্গুর চিকিৎসা

  • প্যারাসিটামলঃ অন্য জ্বরের মতো প্যারাসিটামল দিয়ে জ্বর নামিয়ে রাখতে হবে। জ্বর নামিয়ে ১০০ রাখলেই চলবে। ৯৭ করার দরকার নেই। প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ওষুধ ব্যবহার করা উচিত না। এনএসআইডি (ডাইক্লোফেনাক, ইন্ডোমেথাসিন) দ্রুত জ্বর নামিয়ে, ঘাম ঝরিয়ে শকে নিতে পারে, কিডনির ক্ষতি করতে পারে। খাদ্যনালিতে রক্তক্ষরণ ত্বরান্বিত করে জীবনের ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। সাপোজিটরি নিলে শুধু প্যারাসিটামল, অন্য কিছু নয়। চার ডোজে ভাগ করে প্রতিবারে পাঁচশ মিলিগ্রাম প্যারাসিটামল খাওয়া উচিত তার পরেও ১০২-এর বেশি থাকলে একবারে তৎক্ষণাৎ এক হাজার মিলিগ্রাম প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে।
  • পানিঃ কয়েকদিন তিন লিটার পানি পান করতে হবে। প্রয়োজনে স্যালাইন নিতে পারলে ভালো।
  • নিউট্রিশনঃ জ্বরের সময় ক্ষুধামন্দা হয়, বমি লাগে। ফলের রস উপকারী পানি এবং অল্পতে বেশি ক্যালরি পাওয়া সম্ভব। স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে।

ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু এবং গ্রেড-১ হিমোরেজিকে এর চেয়ে বেশি কিছু লাগে না এবং বাসায়ই চিকিৎসা করা উচিত। গ্রেড-২-তে বাড়তি সমস্যা হল প্রথমদিকেই ধরতে না পারলে চিকিৎসা না দিলে গ্রেড-৩ বা গ্রেড-৪ অর্থাৎ শকে চলে যেতে পারে। ব্লাডপ্রেসার মনিটর করতে হবে যাতে পালস প্রেসার ২০-এর বেশি থাকে।

সিস্টলিক প্রেসার ৯০-এর বেশি রাখতে হবে। এটা করতে হলে পানি দিতে হবে এবং স্যালাইন দিতে হবে। ব্লাড প্রেসার ও প্রস্রাবের পরিমাণ দেখে মনিটর করতে হবে। গ্রেড-২-তে যদি পেটের ব্যথা না কমে এবং বমি হচ্ছে অথবা প্রেসার ঠিক থাকছে না তাহলে হাসপাতালে নিতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটা বেশি হয়। ইন্ডোমেথাসিন, ডাইক্লোফেনাক সাপোজিটরি নিলেও এটা হয়।

আরও পড়ুনঃ প্রস্রাবে ইনফেকশনের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

ঘরে চিকিৎসা নিতে করণীয়-

ক) পর্যাপ্ত বিশ্রাম (জ্বর চলাকালীন এবং জ্বরের পর এক সপ্তাহ) নিতে হবে।

খ) স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার খাবেন। যেমন- খাবার স্যালাইন, টাটকা ফলের রস ইত্যাদি।

গ) এ ছাড়াও গ্লুকোজ, ভাতের মাড়, বার্লি, ডাবের পানি, দুধ/হরলিকস, বাসায় তৈরি স্যুপ ইত্যাদি।

ডেঙ্গু হলে করণীয় কি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কি করবেন?

বর্তমানে ঢাকাসহ সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বর প্রকট আকার ধারণ করেছে। ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর যা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এই মশা সাধারণত সূর্যোদয় হতে সূর্যাস্তের আধাঘন্টা পূর্ব পর্যন্ত সক্রিয় থাকে এবং মানুষকে কামড়িয়ে থাকে। সাধারণ চিকিৎসাতেই ডেঙ্গু জ্বর সেরে যায়, তবে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম এবং হেমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বর মারাত্মক হতে পারে। বর্ষার সময় এ রোগের প্রকোপ বাড়তে থাকে। এডিস মশার বংশ বৃদ্ধি রোধের মাধ্যমে ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ করা যায়।

১। আপনার ঘরে এবং আশেপাশে যে কোন জায়গায়, ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যাক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা/নারিকেলের মালা, কন্টেইনার, মটকা, ব্যাটারি শেল ইত্যাদিতে যেন পানি জমে না থাকে সে বিষয়ে নিশ্চিত হোন।

২। ব্যবহৃত পাত্রের গায়ে লেগে থাকা মশার ডিম অপসারণে পাত্রটি ঘষে ঘষে পরিস্কার করুন।

৩। অব্যবহৃত পানির পাত্র ধ্বংস অথবা উল্টে রাখতে হবে যাতে পানি না জমে।

৪। দিনে অথবা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন।

ডেঙ্গু জ্বরে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, সুস্থ থাকুন।

তথ্যসূত্রঃ

Dr. M Shahadat Hossain
Follow me

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This field is required.

This field is required.

seven − 5 =

Call Now