স্পন্ডিলাইটিস হলে কি করতে হয়? স্পন্ডিলাইটিস হল মেরুদণ্ড ও মেরুদন্ডের ছোট ছোট জয়েন্টের (ফ্যাসেট ও অন্যান্য জয়েন্ট) একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ। এটি মূলত মেরুদণ্ডের হাড় ও জয়েন্টগুলোকে আক্রমণ করে, যার ফলে মেরুদণ্ডের কাঠিন্যতা দেখা দেয় ও স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। এটি শুরু হয় স্যাক্রো আইলিয়াক জয়েন্ট থেকে শুরু হয়।

স্পন্ডিলাইটিস হলে কি করতে হয়

স্টিফনেস এর পাশাপাশি এই রোগের ক্ষেত্রে, ইউভাইটিস, স্কিনে র‍্যাশ ওঠা এমনকি ওজন কমে যাকয়ার মত লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এই রোগের সবচেয়ে সাধারণ ধরনের মধ্যে একটি হচ্ছে অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস (AS)। স্পন্ডিলাইটিস সাধারণত তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে শুরু হয় এবং পুরুষদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। রোগটি ধীরে ধীরে মেরুদণ্ডের হাড়গুলির মধ্যে ফিউশন ঘটিয়ে দেয়, যা মেরুদণ্ডকে সোজা ও অনমনীয় করে তোলে। কোমড় ও স্যাক্রো আইলিয়াক জয়েন্টের পাশাপাশি এটি আমাদের শোল্ডার জয়েন্ট, হিপ জয়েন্ট ও হাটুতেও দেখা দিতে পারে। পিঠে ব্যথার অন্যতম কারণ অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিসঃ রোগের ধরণ এবং প্রতিকার

স্পন্ডিলাইটিসের লক্ষণগুলি সময়ের সাথে সাথে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং রোগীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে বাধাগ্রস্ত করে।

লাম্বার স্পন্ডিলাইটিস কি

এংকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস হচ্ছে একধরনের বাতজনিত রোগ যা কিনা দীর্ঘ দিনের কোমড়, পিঠ, ঘাড় ও অন্যান্য জয়েন্টের ব্যথার জন্য দায়ী। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি আমাদের মেরুদন্ডের কোমড়ের অংশে আক্রমণ করে থাকে। যখন এংকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস কোমড়ে আক্রমণ করে তখন এটিকে লাম্বার স্পন্ডাইলাইটিস বলা হয়। এটি সাধারণত মেরুদণ্ডের কোমড়ের অংশের ডিস্ক, হাড় এবং সংশ্লিষ্ট স্নায়ুতে প্রভাব ফেলে।

লক্ষণসমূহ

  1. সাধারণত দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা বিশ্রামে থাকলে কোমড় জমে যায় ও ব্যথা হয়। কিন্তু কিছু এক্সারসাইজ বা নড়াচড়ার মধ্যে থাকলে ব্যথা কমে যায়।
  2. সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কোমরে stiffness বা অস্বস্তি অনুভূত হয়।
  3. চলাফেরায় সমস্যা হওয়া, মেরুদণ্ডের নিচের অংশে শক্ত হয়ে যাওয়া।
  4. অনেক সময় দেখা যায় ব্যথায় রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়।
  5. ব্যথাটি নিতম্বের দিকেও যেতে পারে।

সার্ভাইক্যাল স্পন্ডিলাইটিস কি

ঠিক একইভাবে এংকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস যখন ঘাড়ের মেরুদন্ডে অর্থাৎ সার্ভাইক্যাল স্পাইনে আক্রমণ করে তখন একে সার্ভাইক্যাল স্পন্ডাইলাইটিস বলা হয়। স্পন্ডিলাইটিস (Cervical Spondylitis) হলে মেরুদণ্ডের উপরের অংশে (ঘাড় বা সার্ভাইক্যাল অংশ) প্রদাহ এবং অস্বস্তি হয়ে থাকে। এটি সাধারণত সার্ভাইক্যাল মেরুদণ্ডের ডিস্ক, হাড় এবং সংলগ্ন স্নায়ুতে প্রভাব ফেলে।

লক্ষণসমূহ

  1. সাধারণত ঘাড় বা গলায় ব্যথা এবং অস্বস্তি হয়।
  2. সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ঘাড় জমে যায় ও অস্বস্তি অনুভূত হয়।
  3. ঘাড়ে এবং হাতের নড়াচড়ায় সমস্যা হয়।
  4. ঘাড় থেকে ব্যথা হাতের দিকে যেতে পারে।
  5. মাথায় ব্যথা কিংবা মাথা ভাড়ভাড় লাগতে পারে।

স্পন্ডিলাইটিস এর লক্ষণ কি

স্পন্ডিলাইটিসের লক্ষণগুলি রোগের ধরন এবং প্রগতির ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। এখানে স্পন্ডিলাইটিসের সাধারণ লক্ষণগুলি উল্লেখ করা হলো:

প্রাথমিক লক্ষণ

কোমড়ে ও কাঁধে ব্যথা: সাধারণত কোমরের নিম্নাংশে ব্যথা হয়, যা মাঝে মাঝে মৃদু থেকে তীব্র হতে পারে। অনেক সময় কাঁধের জয়েন্টেও ব্যথা হতে পারে, যা দৈনন্দিন কার্যকলাপকে বাধাগ্রস্ত করে।

মর্নিং স্টিফনেস: সকালে ঘুম থেকে উঠার পর মেরুদণ্ড ও জয়েন্টগুলোতে কাঠিন্যতা বা জমা ভাব অনুভূত হয়। এটি সাধারণত এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে থাকতে পারে এবং এক্সারসাইজ করলে বা হাটাচলা বৃদ্ধির পর কমতে পারে।

পরবর্তী পর্যায়ের লক্ষণ

মেরুদণ্ডের কাঠিন্য: রোগ যত বাড়তে থাকে মেরুদণ্ডের হাড়গুলির মধ্যে ফিউশন ঘটে, যা মেরুদণ্ডকে সোজা ও অনমনীয় করে তোলে। এটি রোগীর শারীরিক গতিশীলতা হ্রাস করে এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে।

জয়েন্টের ব্যথা: মেরুদণ্ড ছাড়াও স্পন্ডিলাইটিস অন্যান্য জয়েন্ট, যেমন কাঁধ, কোমর, হাঁটু ও গোড়ালির জয়েন্টেও ব্যথা ও ফোলাভাব সৃষ্টি করতে পারে।

ফোলাভাব: প্রদাহের কারণে জয়েন্টে ফোলাভাব দেখা যায়, যা জয়েন্টের নড়াচড়ায় সীমাবদ্ধতা আনে।

চোখ ও অন্ত্রের সমস্যা

চোখের সমস্যা: স্পন্ডিলাইটিসের সাথে ইউভাইটিস বা চোখের প্রদাহ হতে পারে, যা চোখে লালচে ভাব, ব্যথা ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস ঘটাতে পারে।

অন্ত্রের সমস্যা: এন্টেরোপ্যাথিক আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে অন্ত্রের প্রদাহজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন ক্রোনস ডিজিজ বা আলসারেটিভ কোলাইটিস। এতে পেট ব্যথা, ডায়রিয়া ও রক্তপাতের সমস্যা হতে পারে।

অন্যান্য সাধারণ লক্ষণ

ক্লান্তিভাব: দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহজনিত কারণে রোগীরা ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন।

তাপমাত্রা বৃদ্ধি: কিছু রোগীর ক্ষেত্রে গায়ে হালকা জ্বর থাকতে পারে।

ওজন হ্রাস: দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতার কারণে ওজন কমে যেতে পারে।

স্পন্ডিলাইটিসের লক্ষণগুলি সময়ের সাথে সাথে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং রোগীকে শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করে। প্রাথমিক লক্ষণগুলি সনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা এবং উন্নত পর্যায়ের লক্ষণগুলি মনিটরিং করা রোগীর আরোগ্য ও জীবনের মান উন্নত করতে সহায়ক।

স্পন্ডিলাইটিস এর ঔষধ

স্পন্ডিলাইটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলি মূলত প্রদাহ, ব্যথা, এবং রোগের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। নিচে স্পন্ডিলাইটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ওষুধের নাম উল্লেখ করা হলো:

  1. এনএসএআইডি (NSAIDs): নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (NSAIDs) প্রদাহ ও ব্যথা কমাতে ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ
    • আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen)
    • ন্যাপ্রোক্সেন (Naproxen)
    • ডাইক্লোফেনাক (Diclofenac)
  2. বায়োলজিক্স: বায়োলজিক ওষুধগুলি ইমিউন সিস্টেমের প্রতিক্রিয়া কমায় এবং প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। যেমনঃ
    • TNF ইনহিবিটরস: ইনফ্লিক্সিম্যাব (Infliximab), এটানারসেপ্ট (Etanercept), অ্যাডালিমুম্যাব (Adalimumab)
    • IL-17 ইনহিবিটরস: সেকুকিনুম্যাব (Secukinumab)
  3. ডিএমএআরডি (DMARDs): ডিজিজ মডিফাইং অ্যান্টি-রিউম্যাটিক ড্রাগস (DMARDs) দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ কমায় এবং রোগের অগ্রগতি ধীর করতে সহায়ক। যেমনঃ
    1. মেথোট্রেক্সেট (Methotrexate)
    2. সালফাসালাজিন (Sulfasalazine)
    3. লেফলুনোমাইড (Leflunomide)
  4. জেনেরিক কর্টিকোস্টেরয়েড: তীব্র প্রদাহ ও ব্যথা কমাতে কর্টিকোস্টেরয়েড ওষুধগুলি ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ
    • প্রেডনিসোলোন (Prednisolone)
    • মিথাইলপ্রেডনিসোলোন (Methylprednisolone)
  5. পেইন রিলিভার: ব্যথা কমাতে এবং রোগীর স্বস্তি বাড়াতে ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ
    • অ্যাসিটামিনোফেন (Acetaminophen)
    • ট্রামাডল (Tramadol)
  6. অন্যান্য ওষুধ: প্রদাহ ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ
    • বিসফসফোনেটস (Bisphosphonates): হাড়ের ক্ষতি রোধে সাহায্য করে।
    • ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি: হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক।

স্পন্ডিলাইটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলি চিকিৎসক রোগীর অবস্থা, রোগের তীব্রতা, এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করে থাকেন। সঠিক ওষুধপত্র গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে রোগীর স্বাস্থ্যগত উন্নতি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়ক।

স্পন্ডিলাইটিস এর ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ

স্পন্ডিলাইটিসের চিকিৎসায় নিয়মিত এক্সারসাইজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি মেরুদণ্ড ও অন্যান্য জয়েন্টগুলির স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে, ব্যথা কমাতে, এবং রোগের অগ্রগতি ধীর করতে সহায়ক। এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ এক্সারসাইজের ধরন উল্লেখ করা হলো যা স্পন্ডিলাইটিসের রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে:

মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়ানোর এক্সারসাইজ

কাঁধ ও ঘাড়ের স্ট্রেচিং: ঘাড় ধীরে ধীরে ডান দিকে এবং বাম দিকে বাঁকানো। দুই কাঁধ ধীরে ধীরে উপরের দিকে তোলা এবং নামানো।

ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ: হাত ও হাঁটু মাটিতে রেখে ঘোড়ার মত হয়ে, শ্বাস নেয়ার সময় পিঠ নিচের দিকে বাঁকানো (কাউ পোজ), শ্বাস ছাড়ার সময় পিঠ উঁচু করে তোলা (ক্যাট পোজ)। এই এক্সারসাইজটি মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে এবং স্টিফনেস কমায়।

পিঠ ও কোমরের এক্সারসাইজ

ব্রিজিং এক্সারসাইজ: চিৎ হয়ে শোয়া অবস্থায় হাঁটু বাঁকা করে পা মাটিতে রাখা, কোমর উপরের দিকে তোলা এবং পুনরায় নামানো। এই এক্সারসাইজ করলে কোমরের মাংসপেশি শক্তিশালী হয় এবং কোমরের নমনীয়তা বৃদ্ধি পায়।

সুপারম্যান এক্সারসাইজ: উপুর হয়ে শোয়া অবস্থায় হাত ও পা সোজা করে তোলা এবং কিছুক্ষণ ধরে রাখা। এটি পিঠ ও কোমরের মাংসপেশি শক্তিশালী করে।

হিপ এবং লেগ স্ট্রেচিং

নি টু চেস্ট স্ট্রেচ: চিৎ হয়ে শোয়া অবস্থায় একটি হাঁটু বুকের দিকে টেনে ধরুন এবং কিছুক্ষণ ধরে রাখুন, একইভাবে অন্য হাঁটুতে করুন। এই এক্সারসাইজটি কোমরের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে এবং হিপ ফ্লেক্সর মাংসপেশী স্ট্রেচ করে।

হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেচ: দাঁড়িয়ে বা শোয়া অবস্থায় এক পা সোজা রেখে সামনে বাঁকা করা, অন্য পা মাটিতে সোজা রেখে টানা। হ্যামস্ট্রিং মাংসপেশি স্ট্রেচ করে এবং কোমরের স্টিফনেস কমায়।

ব্যায়াম এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সমন্বয়

টুইস্টিং এক্সারসাইজ: বসে বা দাঁড়িয়ে, মেরুদণ্ড সোজা রেখে শরীরের উপরের অংশ ধীরে ধীরে ডান ও বাম দিকে ঘুরানো। মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে এবং স্টিফনেস কমায়।

ডায়াফ্র্যামাটিক ব্রিদিং: শোয়া অবস্থায় বা বসে, হাত পেটে রেখে গভীর শ্বাস নেয়া এবং ধীরে ধীরে ছাড়া। এই এক্সারসাইজটি শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং মানসিক প্রশান্তি দেয়।

সাঁতার

সাঁতার সমস্ত শরীরের এক্সারসাইজ হিসাবে কাজ করে এবং বিশেষ করে মেরুদণ্ড ও জয়েন্টগুলির জন্য খুবই উপকারী। এটি ব্যথা কমাতে এবং নমনীয়তা বাড়াতে সহায়ক।

স্পন্ডিলাইটিসের রোগীদের জন্য এই ব্যায়ামগুলি নিয়মিতভাবে করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে, ব্যায়াম শুরুর আগে অবশ্যই একজন ফিজিওথেরাপিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ সঠিক পদ্ধতি ও পরিমাণ মেনে চলা জরুরি। ব্যায়ামগুলি ধীরে ধীরে এবং নিয়মিত করা উচিত যাতে শরীরের ক্ষতি না হয় এবং রোগীর উপসর্গগুলি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

কিভাবে সার্ভাইক্যাল স্পন্ডাইলাইটিস স্থায়ীভাবে নিরাময় করা যায়

সার্ভাইক্যাল স্পন্ডাইলাইটিস (Cervical Spondylitis) স্থায়ীভাবে নিরাময় করা কঠিন হতে পারে, তবে সঠিক চিকিৎসা এবং জীবনযাত্রার ধরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা এবং উপসর্গগুলি কমিয়ে আনা সম্ভব। এখানে কিছু উপায় রয়েছে যা আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে:

চিকিৎসা

স্পন্ডাইলাইটিস এর চিকিৎসা বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে। ওষুধের মাধ্যমে, ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা, ঘরোয়া চিকিৎসা ও যদি এ রোগের জটিলতা অনেক বেড়ে যায় তাহলে হয়ত সেক্ষেত্রে অপারেশন করা লাগতে পারে। এছাড়াও পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার, সঠিক ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত এক্সারসাইজ করলেও রোগী ব্যথামুক্ত থাকতে পারে দীর্ঘদিন।

ঔষধি চিকিৎসা (Medication):

  • এন্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগস: যেমন আইবুপ্রোফেন বা ন্যাপ্রোক্সেন ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
  • পেইন রিলিভারস: ব্যথা কমাতে ব্যবহৃত হয়।
  • মাসল রিলাক্স্যান্টস: মাংসপেশির স্পাজম কমাতে সহায়ক।

ফিজিওথেরাপি (Physical Therapy):

  • স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ: ঘাড়ের মাংসপেশীর নমনীয়তা বাড়ায় ও শক্তি বৃদ্ধি করে।
  • মোবিলাইজেশন টেকনিক: ঘাড়ের মেরুদন্ডের জয়েন্টের মুভমেন্ট বাড়াতে বেশ কার্যকর।
  • পোশ্চারাল এক্সারসাইজ: সঠিক ভঙ্গিমা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

একজন ফিজিওথেরাপী চিকিৎসক আপনাকে এসেসমেন্ট করে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। ঘাড়ের নমনীয়তা রক্ষার্থে ও ব্যথা কমাতে বিভিন্ন টেকনিক প্রয়োগ করে থাকেন। পরবর্তীতে আপনাকে একটি হোম এক্সারসাইজ প্রোগ্রাম তৈরী করে দেন যাতে আপনি নিজে নিজে সেগুলো করার মাধ্যমে ব্যথামুক্তভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।

হট অ্যান্ড কোল্ড থেরাপি (Hot and Cold Therapy): গরম বা ঠান্ডা সেক দিলে ব্যথা ও প্রদাহ কমে যায়। বাসায় যদি কোন কারণে ব্যথা বেড়ে যায় তাহলে রোগী হট এন্ড কোল্ড প্যাক এর সাহায্য নিতে পারে।

স্টেরয়েড ইনজেকশন: ঘাড়ের কিছু স্থানে স্টেরয়েড ইনজেকশন দিয়ে প্রদাহ কমানো হয়। এটি কেবলমাত্র রিউম্যাটোলজিস্ট এর পরামর্শে গ্রহণ করা উচিৎ।

সার্জারি (Surgery): গুরুতর ক্ষেত্রে সার্জারি করার প্রয়োজন হতে পারে, যেমন কাইফোপ্লাস্টি, স্পাইনাল ওস্টিওটোমি ও লামিনেক্টমি, তবে এটি সাধারণত শেষ উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

জীবনযাত্রার পরিবর্তন

  1. নিয়মিত এক্সারসাইজ: দৈনন্দিন হালকা এক্সারসাইজ ও স্ট্রেচিং করতে হবে, যা ঘাড়ের নমনীয়তা ও শক্তি বাড়ায়।
  2. সঠিক ভঙ্গিমা বজায় রাখা: কম্পিউটার বা ডেস্কে কাজ করার সময় মেরুদন্ড সোজা করে বুক টান রেখে বসা উচিৎ। আমরা একটী লাম্বার রোলের সাহায্য নিতে পারি।
  3. ওজন নিয়ন্ত্রণ: শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে ঘাড়ের উপর চাপ কমানো যায়।
  4. সঠিক ঘুমের পদ্ধতি: উপযুক্ত বালিশ ব্যবহার করে ঘুমানো এবং সঠিক ঘুমের ভঙ্গিমা বজায় রাখা। এক্ষেত্রে আমরা সার্ভাইক্যাল পিলো এর সাহায্য নিতে পারি। এটি আমাদের ঘারের সঠিক বক্রতা ধরে রাখে ও ঘারের অতিরিক্ত চাপ দূর করে।

সার্ভিকাল স্পন্ডাইলাইটিসের চিকিৎসার জন্য একজন ফিজিওথেরাপিস্ট বা অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং নিয়মিত চেক-আপের মাধ্যমে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

তথ্যসূত্র

  1. Braun, J. and Sieper, J., 2007. Ankylosing spondylitis. The Lancet, 369(9570), pp.1379-1390. https://www.thelancet.com/article/S0140-6736(07)60635-7/abstract
  2. Dougados, M. and Baeten, D., 2011. Spondyloarthritis. The Lancet, 377(9783), pp.2127-2137. https://www.thelancet.com/journals/lancet/article/PIIS0140-6736(11)60071-8/fulltext
  3. Sieper, J., Braun, J., Rudwaleit, M., Boonen, A. and Zink, A., 2002. Ankylosing spondylitis: an overview. Annals of the rheumatic diseases, 61(suppl 3), pp.iii8-iii18. https://ard.bmj.com/content/61/suppl_3/iii8.short
  4. Van Der Heijde, D., Ramiro, S., Landewé, R., Baraliakos, X., Van den Bosch, F., Sepriano, A., Regel, A., Ciurea, A., Dagfinrud, H., Dougados, M. and van Gaalen, F., 2017. 2016 update of the ASAS-EULAR management recommendations for axial spondyloarthritis. Annals of the rheumatic diseases, 76(6), pp.978-991. https://ard.bmj.com/content/76/6/978.short
  5. Wendling, D., Claudepierre, P. and Prati, C., 2013. Early diagnosis and management are crucial in spondyloarthritis. Joint Bone Spine, 80(6), pp.582-585. https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S1297319X13000651
  6. Ward, M.M., Deodhar, A., Gensler, L.S., Dubreuil, M., Yu, D., Khan, M.A., Haroon, N., Borenstein, D., Wang, R., Biehl, A. and Fang, M.A., 2019. 2019 update of the American College of Rheumatology/Spondylitis Association of America/Spondyloarthritis Research and Treatment Network recommendations for the treatment of ankylosing spondylitis and nonradiographic axial spondyloarthritis. Arthritis & rheumatology, 71(10), pp.1599-1613. https://acrjournals.onlinelibrary.wiley.com/doi/abs/10.1002/art.41042

 

0 0 প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা
পোস্ট রেটিং
0 মন্তব্য
প্রতিক্রিয়া
সমস্ত প্রতিক্রিয়া দেখুন
পরামর্শ নিতে 01877733322