fbpx

আপনার দাঁতে ব্যথা অনুভুত হলে সেটি কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়। দাঁতের ক্ষয়জনিত কারণে যদি ব্যথা হয়ে থাকে আর আপনি দীর্ঘসময় চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকেন, তবে সেটি ধীরে ধীরে খারাপ অবস্থার দিকে ধাবিত হতে পারে। দাঁতে বা এর আশেপাশে ব্যথা অনুভূত হলে অবশ্যই একজন দন্তচিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

প্রায়শ, দাঁতে ব্যথা একটি লক্ষণ যে, আপনার দাঁতে বা দাঁতের মাড়িতে কোন না কোন সমস্যা আছে। তবে কখনো কখনো, শরীরের অন্য কোন জায়গার সমস্যার কারণেও আপনি দাঁতে ব্যথা বা দাঁতের মাড়িতে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। একে ‘রেফার্ড পেইন’ বলে।

দাঁতে ব্যথা সাধারণত প্রাণঘাতী নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে, দাঁতে ব্যথা বা দাঁতের মাড়ির ব্যথা কোন গুরুতর শারীরিক কন্ডিশনের উপসর্গ হতে পারে, যার অবিলম্বে চিকিৎসা প্রয়োজন। 

দাঁতের ব্যথা বা দাঁতের মাড়ির ব্যথায় কেমন লাগে?

দাঁতের-ব্যথায়-করণীয়

দাঁতে ব্যথা হালকা থেকে গুরুতর হতে পারে এবং এটি থেমে থেমে অনুভূত হতে পারে (ইন্টারমিটেন্ট পেইন) অথবা ধারাবাহিক (কনস্ট্যান্ট পেইন) হতে পারে। আপনি অনুভব করতে পারেন:

  • দাঁত বা মাড়ির আশেপাশে প্রচন্ড ব্যথা (থ্রবিং পেইন)
  • জ্বর
  • দাঁত বা মাড়ি স্পর্শ করলে বা খাবারে কামড় বসালে তীব্র ব্যথা (সার্প পেইন)
  • মিষ্টি খাবার খেলে ব্যথা অনুভুত হওয়া
  • গরম বা ঠান্ডা খাবার এবং পানীয় গ্রহণের সময় দাঁতে বেদনাময় সংবেদনশীলতা
  • চোয়ালে ব্যথা
  • মুখে খারাপ স্বাদ অনুভব করা
  • মুখে বাজে গন্ধ থাকা
  • মাড়িতে লালচে বা ফোলা ভাব থাকা
  • পুঁজ বা সাদা তরল
  • জ্বলাভাব অনুভব করা ইত্যাদি।

প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশু উভয়েরই দাঁতের ব্যথা হতে পারে। আপনার উপরে উল্লেখিত কোন লক্ষণ বা উপসর্গের উপস্থিতি থাকলে অবিলম্বে একজন দন্তচিকিৎসকের সাথে দেখা করুন। দাঁতের ব্যথার কারণ কী, তা খুঁজে বের করতে আপনার সম্ভবত একটি দন্তপরীক্ষা ও এক্সরের প্রয়োজন হবে।

আরও পড়ুনঃ বাতের ব্যথা হলে কি করবেন?

দাঁতে ব্যথা বা দাঁতের মাড়ি ব্যথার অন্তর্নিহিত কারণ

১. দাঁত ব্যথার সাধারণ কারণ

দাঁত বা দাঁতের মাড়ি ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হচ্ছে দাঁতের ক্ষয়। দাঁতের ক্ষয় যদি চিকিৎসাবিহীন অবস্থায় থাকে, তবে সেখানে ফোড়া (এবসেস) তৈরী হতে পারে। এটি হলো আপনার দাঁতের কাছে বা দাঁতের ভিতরের পাল্পে সংক্রমণ। আপনার যদি মনে হয়, আপনার দাঁতে বা মাড়িতে ফোড়া আছে, তাহলে দ্রুততার সাথে দন্তচিকিৎসকের কাছে যান। অনেক সময়, এই সংক্রমণ আপনার মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা আপনার জীবন হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে।

আঘাতপ্রাপ্ত দাঁতের কারণেও দাঁতে ব্যথা হতে পারে। এটি ঘটে যখন আক্কেল দাঁত আপনার মাড়ির টিস্যু বা হাড়ে আটকে থাকে।

দাঁতের-ব্যথায়-করণীয়

** দাঁতের ক্ষয়: দাঁতে একটি গর্ত, যা শুরুতে ছোট থাকে, তবে চিকিৎসা করা না হলে ধীরে ধীরে বড় হয়। যেহেতু দাঁতে গর্তের কারণে শুরুতে ব্যথা অনুভূত হয়না, তাই এটি উপলব্ধি করা অনেকের জন্যই কঠিন যে তার এই সমস্যা আছে। যদি আপনি নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ করান, তাহলে প্রাথমিক পর্যায়েই দাঁতের ক্ষয় শনাক্ত করা সম্ভব।

দাঁতের-ব্যথায়-করণীয়

দাঁতে ক্ষয় বিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম। দাঁত আছে, এমন যে কোন বয়সী মানুষেরই দাঁতে ক্ষয়জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। হঠাৎ করে দাঁতে গর্ত আছে জেনে অনেকেই ভীষণ অবাক হয়, বিশেষ করে যারা মনে করে যে, তাদের একটি ভালো ওরাল হাইজিন রুটিন আছে। যাই হোক, আপনার দাঁতে ক্ষয় আছে ধরা পড়লে এর চিকিৎসা আছে এবং নতুন করে যাতে অন্য দাঁতে ক্ষয় না হয়, তার জন্যও প্রতিরোধ ব্যবস্থা আছে।

এই সমস্যার উপসর্গগুলো দাঁতের ক্ষয়ের তীব্রতার উপর নির্ভর করে। তার মধ্যে আছে:

* দাঁতের সংবেদনশীলতা

* দাঁতে ব্যথা

* দাঁতে দৃশ্যমান গর্ত

* দাঁতে ফ্যাকাশে সাদা বা কালো দাগ ইত্যাদি।

দাঁতের ক্ষয় সাধারণত প্লাক দ্বারা হয়ে থাকে। প্লাক হলো একটি আঠালো পদার্থ, যা দাঁতের সাথে আবদ্ধ হয়। প্লাক হলো ব্যাকটেরিয়া, মুখের লালা, অ্যাসিড, খাদ্যকণার একটি সংমিশ্রণ। প্রত্যেকের মুখেই ব্যাকটেরিয়া থাকে। চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া বা পান করার পরে আপনার মুখের ব্যাকটেরিয়া চিনিকে অ্যাসিডে পরিণত করে। চিনিযুক্ত কিছু খাওয়া বা পান করার পরেই আপনার দাঁতে প্লাক তৈরী হতে শুরু করে। এই কারণে নিয়মিত ব্রাশ করা গুরুত্বপূর্ণ। প্লাক আপনার দাঁতে লেগে থাকে এবং প্লাকের অ্যাসিড ধীরে ধীরে দাঁতের এনামেলকে ক্ষয় করতে থাকে। এনামেল হলো দাঁতের একটি শক্ত, প্রতিরক্ষামূলক আবরণ, যা দাঁতের ক্ষয় থেকে দাঁতকে সুরক্ষা প্রদান করে। দাঁতের এনামেল দুর্বল হওয়ার সাথে সাথে ক্ষয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। 

আরও পড়ুনঃ ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

যারা দাঁতের ক্ষয়ের ঝুঁকিতে আছেন:

* অনেক বেশি চিনিযুক্ত বা অ্যাসিডিক খাবার ও পানীয় গ্রহণ

* স্বাস্থ্যকর ওরাল হাইজিন বজায় না রাখা

* ফ্লোরাইড সমৃদ্ধ খাবার না খাওয়া

দাঁতের-ব্যথায়-করণীয়

* শুষ্ক মুখ

* অ্যানোরেক্সিয়া এবং বুলিমিয়ার মতো ইটিং ডিজঅর্ডারে যারা ভুগছেন

* অ্যাসিড রিফ্লাক্স ডিজিজ, যার কারণে পাকস্থলীর অ্যাসিড আপনার দাঁতের এনামেলকে ক্ষয় করা শুরু করে ইত্যাদি।

দেখা গেছে, সাধারণত পিছনের দাঁতগুলো ক্ষয়প্রবণ হয়। এই দাঁতগুলোতে খাঁজ এবং খোলা জায়গা আছে, যেখানে খাদ্যকণা আটকাতে পারে। এছাড়াও ব্রাশ এবং ফ্লস করার সময় এই দাঁতগুলোতে কখনো কখনো পৌছানো কঠিন হয়। দাঁতের ক্ষয়ে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি কমাতে আপনি নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করতে পারেন:

* ফ্লোরাইড সমৃদ্ধ টুথপেস্ট দিয়ে দিনে অন্তত দুই বার ব্রাশ করুন

* আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের সুপারিশ অনুসারে, প্রতিদিন অন্তত একবার ফ্লস করুন।

* মিষ্টি, মিছরি, জুস, সোডা এবং পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটের মতো চিনিযুক্ত ও অ্যাসিডিক খাবার কম খান

* খাবারের মাঝে নাস্তাজাতীয় খাবার সীমিত করুন

* আপনার খাদ্যতালিকায় ফাইবার সমৃদ্ধ ফল ও সবজি, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার, জাইলিটোল চিনিবিহীন চুইংগাম, চিনিছাড়া কালো বা সবুজ চা, ফ্লোরাইড সমৃদ্ধ পানি পান ইত্যাদি যোগ করুন।

** দাঁত বা দাঁতের মাড়িতে ফোড়া: ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। ফোঁড়ার কারণে মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথা অনুভুত হতে পারে, পাশাপাশি কান বা ঘাড়েও ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে। দাঁতের মাড়িতে ফোড়ার তিনটি সাধারণ প্রকরণ হলো:

১. পেরিয়াপিকাল এবসেস – এটি হলো দাঁতের রুট বা মূলের ডগায় ফোড়া

২. পেরিয়োডন্টাল এবসেস – দাঁতের মূলের পাশের মাড়িতে ফোড়া, যা পার্শ্ববর্তী টিস্যু এবং হাড়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৩. জিনজিভাল এবসেস- দাঁতের মাড়িতে ফোড়া।

দাঁতের ফোড়ার প্রধান উপসর্গ হলো দাঁতের কাছাকাছি বা মাড়িতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়া। ব্যথা সাধারণত হঠাৎ করেই আসে এবং সময়ের সাথে সাথে আরো খারাপের দিকে যায়। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে আছে:

* ব্যথা কান, চোয়াল বা ঘাড়ে ছড়িয়ে পড়া

* শুয়ে থাকা অবস্থায় ব্যথা বেশি অনুভূত হওয়া

* খাবার চিবানো বা কামড়ানোর সময় ব্যথা অনুভুত হওয়া

* মুখে লালচে ও ফোলাভাব

* মাড়ি ফুলে লাল হয়ে যাওয়া

* দাঁতের সংবেদনশীলতা

* দাঁত বিবর্ণ হয়ে যাওয়া

* মুখে দুর্গন্ধ

* মুখে খারাপ স্বাদ

* জ্বর ইত্যাদি।

দাঁতের-ব্যথায়-করণীয়

যদি ফোড়া কোন কারণে ফেটে যায়, আপনি সাথে সাথেই অনুভব করবেন, ব্যথা কমে গেছে। তবে পাশাপাশি পুঁজ বের হবার কারণে মুখে উদ্ভট স্বাদ পাবেন।

আরও পড়ুনঃ ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা

২. অন্যান্য জায়গার সমস্যার কারণে দাঁতে ব্যথা (রেফার্ড পেইন টুথএক) হবার সাধারণ কারণ:

সাইনোসাইটিস হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে আপনার সাইনাস গহ্বরে ভাইরাল, ব্যাকটেরিয়াল অথবা ছত্রাকের সংক্রমণের কারণে সাইনাস স্ফীত হয়। যেহেতু মাড়ির উপরের দাঁতের রুট সাইনাসের কাছাকাছি থাকে, তাই সাইনোসাইটিস হলে আপনার উপরের দাঁতে ও দাঁতের মাড়িতে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। 

সাইনোসাইটিসের লক্ষণ ও উপসর্গগুলসাধারণ সর্দি-কাশির মতোই। এর মধ্যে আছে:

* গন্ধ অনুভূতি হ্রাস

* জ্বর

* সর্দি

* সাইনাস চাপ থেকে মাথাব্যথা

* ক্লান্তি

* কাশি ইত্যাদি

শিশুদের ক্ষেত্রে সাইনোসাইটিস সনাক্ত করা অনেক অভিভাবকদের পক্ষে কঠিন হতে পারে। বাচ্চাদের সাইনোসাইটিস এর উপসর্গের মধ্যে আছে:

* ঠান্ডার সাধারণ উপসর্গের উপস্থিতি, যা দশ থেকে চৌদ্দ দিনের মধ্যেও ভালো হয় না

* অ্যালার্জির লক্ষণ যা ওষুধে সারে  না

* দীর্ঘস্থায়ী কাশি

* ১০২.২ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা ৩৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর উপরে জ্বর, যা উচ্চ জ্বর বলে বিবেচিত হয়

* নাক থেকে ঘন সবুজ বা হলুদ শ্লেষ্মা নির্গত হওয়া ইত্যাদি।

সাইনোসাইটিস প্রায়ই ঘটে যখন কিছু, যেমন শ্লেষ্মা, আপনার সাইনাসের রাস্তাকে ব্লক করে।

যে কেউ সাইনোসাইটিস বা সাইনাসের সংক্রমণ এর ভুক্তভোগী হতে পারে। যাইহোক, কিছু স্বাস্থ্য শর্ত এবং ঝুঁকির কারণ আপনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে, যার মধ্যে আছে:

* নাকের কাঠামোগত সমস্যা যেমন:

– একটি বিচ্যুত সেপ্টাম, যা ঘটে যখন টিস্যুর প্রাচীর যা বাম এবং ডান নাসারন্ধ্রের মধ্যে অবস্থিত, তা অসম হয়

– একটি অনুনাসিক হাড়ের বৃদ্ধি

– অনুনাসিক পলিপ, যা সাধারণত ক্যান্সারবিহীন ইত্যাদি

* দুর্বল ইমিউন সিস্টেম

* অ্যালার্জির ইতিহাস

* সর্দি এবং অন্যান্য উপরের শ্বাসনালীর সংক্রমণ, যা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক দ্বারা সৃষ্ট হতে পারে

* সিস্টিক ফাইব্রোসিস, যা আপনার ফুসফুসে এবং অন্যান্য মিউকাস মেমব্রেনের আস্তরণে ঘন শ্লেষ্মা তৈরি করে

* মোল্ড এক্সপোজার

* তামাক ধূমপান

* দাঁতের সংক্রমণ

* বিমান ভ্রমণ, যা আপনাকে জীবাণুর উচ্চ ঘনত্বের কাছে প্রকাশ করতে পারে ইত্যাদি।

আরও পড়ুনঃ ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

কখনো কখনো, ঠান্ডা, অ্যালার্জেন, বা ব্যাকটেরিয়া খুব বেশি মিউকাস বা শ্লেষ্মা তৈরি করতে পারে। এই শ্লেষ্মা জমাট ঘন হয়ে যেতে পারে এবং আপনার সাইনাস গহ্বরে ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য জীবাণু তৈরি করতে উৎসাহিত  করতে পারে, যা অবশেষে সাইনাস সংক্রমণের দিকে পরিচালিত করে।

সাইনোসাইটিস বিভিন্ন ধরনের আছে, এবং তাদের সব একই উপসর্গ আছে। লক্ষণগুলির তীব্রতা এবং সময়কাল পরিবর্তিত হবে।

১. অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস: এর সময়কাল সবচেয়ে কম। এটি চার সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সাধারণ সর্দি দ্বারা আনা একটি ভাইরাল সংক্রমণ লক্ষণগুলোর কারণ হতে পারে যা সাধারণত দশ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ভাইরাল সংক্রমণ শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, অ্যাকিউট সাইনোসাইটিসের দিকে নিয়ে যায়, তবে মৌসুমী অ্যালার্জি আরেকটি সম্ভাব্য উৎস।

২. সাব অ্যাককিউট সাইনোসাইটিস: এর লক্ষণ বারো সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই অবস্থা সাধারণত মৌসুমি অ্যালার্জি বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের সাথে ঘটে।

৩. রিকারেন্ট অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস: এই ক্ষেত্রে, আপনার এক বছরের মধ্যে অ্যাকিউট  সাইনোসাইটিসের কমপক্ষে চারটি পর্ব রয়েছে। এর প্রতিটি পর্ব কমপক্ষে সাত দিন স্থায়ী হতে হবে।

৪. ক্রনিক সাইনোসাইটিস: দীর্ঘস্থায়ী সাইনোসাইটিসের লক্ষণগুলি বারো সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে থাকে। ক্রনিক সাইনোসাইটিসের লক্ষণগুলো প্রায়ই অ্যাকিউট সাইনোসাইটিসের লক্ষণগুলোর তুলনায় কম গুরুতর হয়। এই ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ দায়ী হতে পারে। উপরন্তু, ক্রনিক সাইনোসাইটিস সাধারণত ক্রমাগত অ্যালার্জি বা নাকের কাঠামোগত সমস্যাগুলির পাশাপাশি ঘটে।

দাঁতের ব্যথা কমানোর ওষুধ

দাঁতের ব্যথার জন্য সবার প্রথমে অবশ্যই দন্তচিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তবে, সেটা সম্ভব না হলে যে ওষুধগুলো সাময়িকভাবে আপনার দাঁতের ব্যধা উপশম করতে সাহায্য করতে পারে, তার মধ্যে আছে:

১. ওভার দ্যা কাউন্টার (ওটিসি) ব্যথার ওষুধ, যেমন: অ্যাসপিরিন

২. ওটিসি টপিক্যাল দাঁতের ব্যথার ওষুধ যেমন: বেনজোকেইন(অ্যানবেসল, ওরাজেল ইত্যাদি)

৩. ওটিসি ডিকনজেস্ট্যান্ট যেমন: সিউডোফেড্রিন(সুডাফেড), যদি আপনার ব্যথা সাইনাস কনজেশনের কারণে হয়

বেনজোকেইন ব্যবহারের আগে অবশ্যই ডেন্টিস্টের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের বেনজোকেইনযুক্ত কোন পণ্য ব্যবহার করা উচিত না।

দাঁতের ব্যথা বা দাঁতের মাড়ি ব্যথা কমানোর ঘরোয়া চিকিৎসা

১. লবণ পানি দিয়ে কুলকুচা করা

২. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড মিশ্রিত পানি দিয়ে গড়গড়া করা

৩. পেপারমিন্ট টিব্যাগের ব্যবহার

৪. রসুন ছেঁচে ব্যথার স্থানে ব্যবহার করা

৫. ভ্যানিলার নির্যাস ব্যথার জায়গায় লাগানো

৬. লবঙ্গ তেল ব্যবহার

৭. পেয়ারার পাতা পানিতে সিদ্ধ করে মাউথ ওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করা

৮. গমঘাস সিদ্ধ করে পান করা বা মাউথওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করা

৯. থাইম এসেনশিয়াল তেলের ব্যবহার ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:

Dr. M Shahadat Hossain
Follow me

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This field is required.

This field is required.

13 + 20 =

Call Now