fbpx

বর্তমান বিশ্বে অসংক্রমক ব্যাধী ফলে মৃত্যু ঘটে তার মধ্যে স্ট্রোক অন্যতম। সারা বিশ্বে প্রতিবছর ১৩.৭ মিলিয়ন মানুষ স্টকে আক্রান্ত হন। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতিবছর ৭৯৫,০০০ জন ব্যক্তি স্টকে আক্রান্ত হন, তার মধ্যে নতুন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬১০,০০০ জন । আমাদের দেশে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্স এন্ড হসপিটালের তথ্য মতে প্রতি ১০০০ জন মানুষের মধ্যে ১২ জন ব্যক্তি স্টকে আক্রান্ত হন।বাংলাদেশের স্ট্রোকের পাদুর্ভাব ০.৩ % যদিও এর কোন সঠিক তথ্য রেকর্ড করা হয়নি। স্টোক একটি অতি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা এবং এর দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা না গেলে রোগীকে পঙ্গুত্ব বরণের পাশাপাশি তার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

স্ট্রোক কি?

স্ট্রোক এমন একটি রোগ যেখানে মস্তিষ্কের রক্ত সরবরাহের বিঘ্নতার জন্য আমাদের মস্তিষ্কের কোষের মৃত্যু ঘটে। ১৯৭০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্ট্রোকের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছিল এভাবে, স্ট্রোক হলো মস্তিষ্কের রক্তবাহের ত্রুটির ফলে উদ্ভূত স্নায়বিক ঘাটতি যা যা ২৪ ঘন্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যমান থাকে বা ২৪ ঘন্টার মধ্যে মৃত্যুর মাধ্যমে পরিসমাপ্তি ঘটে। স্ট্রোকের লক্ষণসমূহ ২৪ ঘন্টার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে সেরে গেলে তাকে ক্ষণস্থায়ী রক্তসংরোধজনিত আক্রমণ (টি আই এ) বলে।বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্ট্রোক  ব্রেইন অ্যাটাক বা মস্তিষ্ক আক্রমণ, অ্যাকিউট ইস্কিমিক সেরিব্রোভাস্কুলার সিন্ড্রোম, সেরিব্রোভাস্কুলার অ্যাক্সিডেন্ট ও সেরিব্রোভাস্কুলার ইনসাল্ট নামে পরিচিত।

শ্রেণিবিন্যাস

স্ট্রোককে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়: ইস্কিমিক বা রক্তসংরোধজনিত স্ট্রোক এবং হেমোরেজিক বা রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক।

ইস্কিমিক বা রক্তসংরোধজনিত স্ট্রোক:

ইস্কিমিক বা রক্তসংরোধজনিত স্ট্রোকে মস্তিষ্কের একটি অংশ রক্ত সরবরাহ কমে যায় যার ফলে মস্তিষ্কের ওই অংশের টিসুর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। প্রায় ৮৭% স্ট্রোক হল স্কিমিক বা রক্তসংরোধজনিত স্ট্রোক।

ইস্কিমিক বা রক্তসংরোধজনিত স্ট্রোকের কারণ সমূহ:-

০১. থ্রম্বোসিস: রক্তনালীর ভিতর একটি রক্তপিন্ডের গঠন, যা রক্তসংবহনতন্ত্রের মধ্য দিয়ে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।

০২. এম্বোলিজম: শরীরের অন্য জায়গায় সৃষ্ট থেকে ভেঙে আসা রক্তপিণ্ড রক্তনালীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সরু রক্তনালিকার আটকে গিয়ে রক্ত চলাচল বাধা সৃষ্টিকরে।

০৩. শরীরের রক্ত সরবরাহ হ্রাস পাওয়া, যেমন, শক (রক্তসংবহনসংক্রান্ত অভিঘাত) ।

০৪. সেরিব্রাল ভিনাস সাইনাস থ্রম্বোসিস ।

০৫. অনেক সময় স্ট্রোক হওয়ার স্পষ্ট কোন কারণ পাওয়া যায় না তখন তাকে ক্রিপ্টোজেনিক (অজানা কারণ) স্ট্রোক বলা হয় থাকে ।

হেমোরেজিক বা রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক:

হেমোরেজিক বা রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে মস্তিষ্কের একটি অংশে রক্তনালিকা ফেটে রক্ত মস্তিষ্কের টিস্যুতে প্রবেশ করে যার ফলে মস্তিষ্কের টিস্যুর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। প্রায় ১৩% স্ট্রোক হলো হেমোরেজিক বা রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক। এটি অপেক্ষাকৃতভাবে ইস্কিমিক বা রক্তসংরোধজনিত স্ট্রোকের চেয়ে মারাত্মক এবং এতে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি হয়ে থাকে।

হেমোরেজিক বা রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের কারণ সমূহ:-

০১. ইন্ট্রাসেরিব্রাল হেমোরেজ, যা মূলত মস্তিষ্কের ভিতরে রক্তপাত (যখন মস্তিষ্কের কোনো ধমনি ফেঁটে গিয়ে চারপাশের টিসুকে রক্তে ভাসিয়ে দেয়), এটা হতে পারে হয় ইন্ট্রাপ্যারেনকিমাল হেমোরেজ (মস্তিষ্ক টিসুর অভ্যন্তরে রক্তপাত) অথবা ইন্ট্রাভেন্ট্রিকুলার হেমোরেজ ( মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকুলার সিস্টেমে রক্তপাত)।

০২. সাব-অ্যারাকনয়েড হেমোরেজ, যা মূলত মস্তিষ্ক টিসুর বাইরে কিন্তু করোটির ভিতরে রক্তপাত, বিশেষত অ্যারাকনয়েড মেটার ও পায়া মেটার (মস্তিষ্কের আবরণী মেনিনজেস এর তিনটি স্তরের মধ্যে অন্তরতম সূক্ষ্ম স্তর) এর মাঝখানে।

চলুন জেনে নেই স্ট্রোকের লক্ষণ সমূহ:

স্ট্রোক, মস্তিষ্কে কতোটা ক্ষতি করবে এটা নির্ভর করে এটি মস্তিষ্কের কোথায় ঘটেছে এবং কতোটা জায়গা জুড়ে হয়েছে, তার ওপর। স্ট্রোকের লক্ষণ একেকজনের ক্ষেত্রে একেকরকম হয়। অনেকে স্ট্রোক হওয়ার কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক হয়ে যান। এ কারণে আর চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। এতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

  • আচমকা হাত, পা বা শরীরের কোনও একটা দিক অবশ হয়ে যাওয়া। হাত ওপরে তুলতে না পারা।
  • চোখে ঝাপসা/ অন্ধকার দেখা।
  • কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া।
  • ঢোক গিলতে কষ্ট হওয়া।
  • জিহ্বা অসাড় হয়ে, মুখ বেঁকে যাওয়া।
  • শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে পড়ে যাওয়া/জ্ঞান হারানো।
  • হঠাৎ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বাজ পড়ার মতো তীব্র মাথাব্যথা।
  • বমি বমি ভাব, বমি, খিঁচুনি হওয়া।
  • মাথা ঘুরানো, হাটতে অসুবিধা হওয়া, ভারসাম্য রক্ষায় অসুবিধা হওয়া
  • কথা বলতে সমস্যা হওয়া
  • অবশ, দুর্বল লাগা, শরীরের এক পাশ অকেজো হওয়া
  • চোখে ঘোলা লাগা, অন্ধকার লাগা বা ডাবল দেখা
  • হঠাৎ খুব মাথা ব্যথা

যারা স্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকেন:

বয়স: আপনার বয়স বাড়ার সাথে সাথে, আপনার ধমনীগুলো আরো শক্ত হয়ে যায়, যার ফলে

সেগুলো আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় ।

স্বাস্থ্যগত সমস্যা: স্বা‌স্থ্যের কিছু সমস্যা আপনার স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

  • যেমন:
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন (অনিয়মিত হৃদস্পন্দন)
  • ডায়াবিটিস
  • উচ্চ কোলেস্টেরল।

জীবনশৈলী: আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে সব কাজ করি তার ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে, যার অন্তর্ভুক্ত হল:

  • ধূমপান
  • খুব মোটা হওয়া
  • খুব বেশি মদ্যপান করা
  • বেশি শরীরচর্চা না করা
  • অস্বা‌স্থ্যকর খাবার খাওয়া।

পারিবারিক ইতিহাস: স্ট্রোক পরিবারে বংশপরম্পরায় চলে। তাই আপনার পরিবারে কারো যদি অতীতে স্ট্রোক হয়ে থাকে তাহলে আপনার স্ট্রোক হওয়ার বেশি সম্ভাবনা আছে।

জাতি:

আফ্রিকান বা ক্যারিবিয়ান পরিবারের কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের ক্ষেত্রে স্ট্রোক বেশি ঘন ঘন হয়। ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মত দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মানুষদের মধ্যে এটা বেশি সাধারণত দেখা যায়।

লিঙ্গ: গবেষণায় দেখা গেছে নারীদের তুলনায় পুরুষদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সাধারণত স্ট্রোক ৫৫ বছরের বেশি বয়স্ক পুরুষদের বেশি হয়

আসুন জেনে নেই স্ট্রোকের ঝুকি কমানোর উপায়:

  • ব্লাড প্রেসার জানা এবং কন্ট্রোল করা ।
  • ধূমপান না করা ।
  • কোলেসটেরল এবং চর্বি জাতীয় খাবার না খাওয়া ।
  • নিয়ম মাফিক খাবার খাওয়া ।
  • সতর্ক ভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা ।
  • নিয়ম করে হাটা বা হালকা দৌড়ানো ।
  • দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করা ।
  • মাদক না নেয়া ,মদ্য পান না করা ।
  • ওজন কমানো ।

স্ট্রোক হলে কি করবেন?

স্ট্রোকের লক্ষণ ও পরবর্তী ব্যবস্থায় নেওয়ার বিষয়ে একটি শব্দ মাথায় রাখতে হবে সেটা হল FAST। এখানে (F=Face) মুখ বাঁকা হয়ে যাওয়া অথবা মুখের এক পাশ ড্রপ হওয়া, ‌(A=Arm) হাত অবশ হয়ে যাওয়া অথবা হাতের শক্তি কমে যাওয়া, (S=Speech) কথা জড়িয়ে যাওয়া এবং(T=Time) যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।

এ ধরণের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে বিছানায় বা মেঝেতে কাত করে শুইয়ে দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে না হলে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

রোগীকে বাতাস করতে হবে, অথবা আলো বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখতে হবে। রোগীর আশেপাশে ভিড় করে কান্নাকাটি করা যাবে না।

গায়ে থাকা কাপড় ঢিলেঢালা করে দিতে হবে যেমন: টাই, বেল্ট, স্কার্ফ, অন্তর্বাসের বাঁধন খুলে দিতে হবে যেন রোগী শ্বাস নিতে পারেন।

রোগী জ্ঞান হারালে তার মুখ খুলে দেখতে হবে কিছু আটকে আছে কিনা। ভেজা কাপড় দিয়ে মুখে জমে থাকা লালা, খাবারের অংশ বা বমি পরিষ্কার করে দিতে হবে।

এ সময় রোগীকে পানি, খাবার বা কোন ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। কারণ একেক ধরণের স্ট্রোকের ওষুধ একেকরকম।

এছাড়া হাতে কানে লতিতে বা হাতের আঙ্গুলে সুঁচ ফুটিয়ে রক্ত বের করার যে ভাইরাল উপায় রয়েছে সেটার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, এসব করলে স্ট্রোকের প্রতিকার তো হবেই না বরং বরং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও রক্তে সংক্রামক ব্যাধি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

সম্ভব হলে হাসপাতালে যাওয়ার আগে রোগীর চিকিৎসার ফাইলপত্র সাথে নিয়ে যাওয়ার ।

স্টোক পরবর্তী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

স্টোক পরবর্তী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন:

স্ট্রোক পরবর্তী চিকিৎসা শুরু করার পূর্বে অবশ্যই কোন ধরনের স্ট্রোক তা সনাক্ত করা অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন। স্টোক সনাক্ত করতে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন হয় যেমন:- কম্পিউটেড টোমোগ্রাফি স্ক্যান (CT), ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং স্ক্যান (MRI), ECG (ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম): হৃদস্পন্দন পরীক্ষা  করা, ডপলার আলট্রাসাউন্ড: গলার ধমনীগুলিতে অবরোধ আছে কিনা তা পরীক্ষা করা, রক্তাচপ মাপা এবং রক্ত পরীক্ষা (রক্ত জমাট বাঁধা, ব্লাড সুগার এবংকোলেস্টেরলের মাত্রা)।

স্ট্রোকের জরুরি চিকিৎসা: একজন অভিজ্ঞ নিউরোলজিস্ট অথবা নিউরোসার্জনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দ্রুত চিকিৎসা নিতে পারলে স্ট্রোক পরবর্তী জটিলতা ও রুগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। জমাট কৃত রক্ত বের করতে অনেক সময় সার্জারিও প্রয়োজন হতে পারে।

স্ট্রোক পরবর্তী সমস্যা সমূহ:

নড়াচড়া ও ভারসাম্য:-

•শরীরের এক পাশে দুর্বলতা অনুভব হওয়া।

•ভারসাম্যহীনতা এবং হাঁটাচলা সমস্যা হওয়া।

• পা, পায়ের পাতা, বাহু ও হাত নাড়াচাড়া করতে সমস্যা হয়।

অন্যান্য শারীরিক সমস্যা:-

• ঢোঁক গিলতে সমস্যা হওয়া।

• মল ও মূত্র ত্যাগের ওপরে নিয়ন্ত্রণ হারানো ।

• ক্লান্তি: এমন ক্লান্তি যা বিশ্রাম নিলেও দূর হয় না ।

• পেশী ও জোড়ে ব্যথা।

চিন্তাভাবনা ও যোগাযোগ:-

• স্মরণশক্তি, মনঃসংযোগ ও সমস্যা-সমাধানের ক্ষেত্রে সমস্যা হওয়া।

• কথা বলা, বোঝা, পড়া ও লেখার সমস্যা হওয়া।

• পারিপার্শ্বিক সম্পর্কে অসচেতনতা: এক পাশের বস্তুগুলির সম্পর্কে সচেতন না থাকা।

ইন্দ্রিয়গত সমস্যা:-

• ডাবল ভিশন সহ দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, আলোর প্রতি খুব বেশি সংবেদনশীল হওয়া, এবং

দৃষ্টিক্ষেত্রের একটা হারানো

• অসাড় ত্বক, এবং ঝিঁঝিঁ ধরা।

আচরণের পরিবর্তন:-

কিছু মানুষের আচরণের পরিবর্তন হয়। তারা তাদের অভ্যাস পালটাতে পারেন এবং

উদাহরণস্বরূপ, কফির পরিবর্তে চা খাওয়া শুরু করতে পারেন। কিছু মানুষ খুব খিটখিটে

হয়ে যান, অথবা ভাবনাচিন্তা না করে কথা বলেন বা কাজ করেন।

স্ট্রোকের পুনর্বাসন:

পুনর্বাসন বলতে বোঝায় দৈনন্দিন কাজকর্ম যথাসম্ভব স্বাভাবিক অব‌স্থায় ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করা এবং অক্ষমতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করা। প্রতিদিনের স্বাভাবিক কার্যকলাপগুলি করতে সক্ষম করা, চলাফেরা করতে, সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করতে এবং যথাসম্ভব স্বাধীন থাকতে সাহায্য করার ওপরে মনযোগ দেওয়া হয়।

তাই স্ট্রোকের পরে অবিলম্বে পুনর্বাসন শুরু করা উচিত। এই পুনর্বাসন সেবা হাসপাতালে শুরু করতে হবে এবং প্রয়োজনে বাড়িতে চালিয়ে যাওয়া উচিত।

ফিজিওথেরাপি: স্ট্রোক পরবর্তী পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি। নিয়মিত ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে নিউরোপ্লাস্টিসিটি ডেভলপ করে। অর্থাৎ মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলি আবার বৃদ্ধি পায় না কিন্তু মস্তিষ্কের অন্যান্য কোষগুলি এই ক্ষতিগ্রস্ত কোষের দায়িত্ব নিতে পারে। যার ফলে দৈনন্দিন কাজ করবো যখন হাটা কথা বলা সামাজিক যোগাযোগ রক্ষা করা ইত্যাদি দক্ষতা গুলি ফিরে পাওয়া যায়। ফিজিওথেরাপি দুর্বল পেশীগুলির শক্তি বৃদ্ধি, সচলতা, ভারসাম্য ও সমন্বয়ের উন্নতি এবং চলাফেরা করতে সাহায্য করে। তাই স্ট্রোক পরবর্তী ফিজিওথেরাপি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শুরু করা উচিত।

অকুপেশনাল থেরাপি: অকুপেশনাল থেরাপি দৈনন্দিনকাজের দক্ষতাগুলি আবার নতুন কর শিখতে সাহায্য করে। যেমন পোশাক পড়া, চলাফেরা করা, খাবার খাওয়া, ব্রাশ করা এবং টয়লেট ব্যবহার করা ইত্যাদি। তাই স্ট্রোক পরবর্তী অকুপেশনাল থেরাপি পুনর্বাসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি: স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি দৈনন্দিন সামাজিক যোগাযোগের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে। তাছাড়া মুখে লালা জোড়া রোধ করতে ও খাবারো পানি গিলতে স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি স্ট্রোক পরবর্তী পুনর্বাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সাইকো থেরাপি: স্ট্রোক পরবর্তী অবসাদ ও উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যা গুলি বৃদ্ধি পায়। রোগীরা অল্পতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে, ফলশ্রুতিতে স্মরণশক্তি, ভাবনা চিন্তা, পারিবারিক ও সামাজিক যোগাযোগে সমস্যা হয়। তাই স্টক পরবর্তী রোগীর মানসিক শক্তি বৃদ্ধি ও মনোবল ঠিক রাখতে সাইকোল থেরাপীর বর্তমানে পুনর্বাসনের অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

খাদ্যবাসের নিয়ন্ত্রণ: অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যবাস স্ট্রোকের অন্যতম কারণ তাই একজন অভিজ্ঞ ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ মতে খাদ্য তালিকায় নিয়ন্ত্রণ করে স্ট্রোকের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে পারি এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারি।

স্টোক পরবর্তী পুনর্বাসনের মাধ্যমে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অক্ষম থেকে সক্ষম ও সুস্থ সুন্দর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এতে করে পরিবার, সমাজ ও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা সম্ভব । তাই আসুন আমরা সবাই উন্নত বিশ্বের মত আমাদের দেশেও পুনর্বাসন সেবার প্রসার বৃদ্ধি করি।

Referances:

Dr. Sapia Akter

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This field is required.

This field is required.

7 + eight =

Call Now