fbpx

Dr-M-Shahadat-Hossain

স্ট্রোক ব্যবস্থাপনার প্রেক্ষাপটে, রোগীর অবস্থার তীব্রতা অনুযায়ী চারটি স্বতন্ত্র স্টেজ বা পর্যায় ধরে চিকিৎসা প্রণালী সাজানো হয়ে থাকে।

১. অ্যাকিউট: স্ট্রোকের পর তাৎক্ষণিক সময়কাল

২. ইন্টারমিডিয়েট বা সাব-অ্যাকিউট: রোগীর চিকিৎসাগতভাবে স্থিতিশীল, সচেতন এবং সক্রিয়ভাবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত হওয়ার পর শুরু হওয়ার সময়কাল।

৩. ডিসচার্জ এবং স্থানান্তর (ট্রান্সফার): আনুষ্ঠানিক পুনর্বাসন থেকে ডিসচার্জ হওয়ার তাৎক্ষণিক আগে এবং এর পরবর্তী সময়কাল

৪. ফলো-আপ পর্যায়: আনুষ্ঠানিক নিয়মিত পুনর্বাসন বন্ধের পরের সময়কাল

Contents hide

অ্যাকিউট স্টেজে চিকিৎসার লক্ষ্য এবং চিকিৎসা প্রণালি

একটি পরিষ্কার শ্বাসনালী বজায় রাখতে

  • ম্যানুয়াল হাইপারইনফ্লেশন- ম্যানুয়াল হাইপারইনফ্লেশনের লক্ষ্য হল অ্যালভিওলার স্তরে গ্যাসীয় বিনিময় ব্যবহার এবং বৃদ্ধি করে ফুসফুসের আয়তন বৃদ্ধি করা এবং ফুসফুসের অ্যাটেলেকটেসিসের ক্ষেত্রগুলোকে পুনরায় প্রসারিত করা।
  • পারকাশন/চেস্ট ক্ল্যাপিং- এটি একটি শক্তি তরঙ্গ তৈরি করে যা বুকের প্রাচীরের মধ্য দিয়ে শ্বাসনালীতে প্রেরণ করা হয়।
  • পজিশনিং – পোস্টচারাল ড্রেনেজ হল রোগীর অবস্থান নির্ধারণের একটি পদ্ধতি যা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির সাহায্যে ফুসফুসের স্থানীয় অঞ্চলগুলোকে নিষ্কাশন করতে সক্ষম করে।
  • সাকশনিং – এটি উপরের শ্বাসনালী থেকে নিঃসরণ অপসারণ করতে ব্যবহৃত হয়।
  • হিউমিডিফিকেশন বা আর্দ্রতা।
  • ইন্টারমিটেন্ট পজিটিভ প্রেশার সাপোর্ট  (আইপিপিএ)
  • কাশিতে সহায়তা করে (এসিসটেড কাফিং)

ডিসফ্যাজিয়া (খাবার গিলতে অসুবিধা) ব্যবস্থাপনায়

  • নাগো-গ্যাস্ট্রিক টিউব, পাশে শুয়ে বা বসে খাওয়ানো, খাবারের ছোট টুকরা।
  • অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করতে খাওয়ানোর সময় মনোযোগ দেওয়া উচিত।

স্বাস্থ্যকর ত্বক বজায় রাখা এবং প্রেশার সোর প্রতিরোধ করতে

  • ২৪ ঘন্টার মধ্যে অবস্থান পরিবর্তন
  • প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার সমস্যাটি যত্নের সাথে দেখা। দুই হাটুর মাঝের এলাকাটি সর্বদা পরিষ্কার এবং শুকনো রাখতে হবে
  • সাবধানে হ্যান্ডলিং, উত্তোলন এবং স্থানান্তর। স্থানান্তর করার সময় শিয়ারিং ফোর্স ত্বকের ক্ষতি করতে পারে এবং তার কারণে প্রেশার সোর হতে পারে।

নরম টিস্যুর স্বাভাবিক দৈর্ঘ্য বজায় রাখতে

সক্রিয় (এক্টিভ) বা সক্রিয় সহায়তামূলক (এক্টিভ এসিসটেড) নড়াচড়া (এটি রোগীর অবস্থার উপর নির্ভর করে- রোগী সচেতন নাকি অচেতন)

পেশী টোন স্বাভাবিক করতে

পেশী টোন কম হলে-

  • স্ট্রেচিং: দ্রুত কিন্তু ধীর গতিতে স্ট্রেচিং
  • ব্রাশিং: ১৯৫০ এর দশকে রুড প্রস্তাব করেছিলেন যে একটি পেশীর উপরে থাকা ত্বকে ব্যাটারি-চালিত ব্রাশ ব্যবহার করে দ্রুত ব্রাশিং একটি পেশী সংকোচনের সুবিধার্থে ব্যবহার করা যেতে পারে। ম্যাককরম্যাক ৩ থেকে ৫ সেকেন্ড এবং আবার আরও ৩০ সেকেন্ড ব্রাশ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
  • সমর্থনের ভিত্তি হ্রাস (বেস অব সাপোর্ট): বেস অব সাপোর্ট হ্রাস করে, আমরা মাধ্যাকর্ষণ কেন্দ্র (একটি বিন্দু যেখান থেকে একটি দেহকে ভারসাম্যের মধ্যে আছে বলে ধরা হয়) বৃদ্ধি করতে পারি। এইভাবে রোগী একটি কার্যকর ভঙ্গি বজায় রাখতে সক্ষম হবে।
  • জয়েন্ট কম্প্রেশন: ওজন বহন করে জয়েন্টের সংকোচন জয়েন্টের রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে এবং এটিজয়েন্টের অবস্থান এবং নড়াচড়া সম্পর্কে সচেতনতার সাথে জড়িত। এইভাবে, স্বাভাবিক “পশ্চারাল মুভমেন্ট” সহজতর করতে সাহায্য করে।

পেশী টোন বেশি হলে-

  • ধীর গতির স্ট্রেচিং: একটি ধীর গতির, মন্থর স্ট্রেচিং একটি পেশী বা জয়েন্টে প্রয়োগ করা হয় যা স্ট্রেচ রিফ্লেক্সকে উদ্দীপিত করে না। পেশী টোন স্বাভাবিক করার জন্য ম্যানুয়াল স্ট্রেচিং এবং ওজন বহন করার অন্যান্য কৌশলগুলো ব্যবহার করা হয়।
  • সহায়তার ভিত্তি বৃদ্ধি (বেস অব সাপোর্ট বাড়ানো): বেস অব সাপোর্ট বৃদ্ধি করে, আমরা রোগীকে আরও স্থিতিশীল করতে পারি। এইভাবে এটি রোগীকে স্পাস্টিক প্যাটার্ন ভেঙ্গে স্বাভাবিক নড়াচড়া করতে উৎসাহিত করবে।
  • উত্তেজনা বাড়ান: যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে বসা থেকে দাঁড়ানো অবস্থায় আনতে হবে। এটি জালিকার গঠনে (রেটিকুলার ফরমেশন) সাহায্য করবে। এটি মস্তিষ্কের অ্যালার্ম ঘড়ি। এইভাবে মস্তিষ্ক আরও কাজ করবে এবং উদ্দীপনা অনুযায়ী ভাল সাড়া দেবে।
  • বিছানার গতিশীলতা (বেড মবিলিটি) উন্নত করা: বিছানায় চলাফেরার অনুশীলন- সুপাইন থেকে দুপাশে শুয়ে থাকা, সুপাইন থেকে প্রোণ অবস্থায় শুয়ে থাকা, রোলিং, ক্রমাগত রোলিং, পেলভিক রোলিং, জিম বল দিয়ে ব্রিজিং ইত্যাদি। প্রোণ বলতে উপুড় হয়ে শোয়া বোঝায়। সুপাইন তার উলটো পজিশনে শোয়া বোঝায়।

ইন্টারমিডিয়েট বা সাব-অ্যাকিউট স্টেজে চিকিৎসার লক্ষ্য এবং চিকিৎসা প্রণালি:

জয়েন্ট রেঞ্জ অফ মোশন বজায় রাখা

জয়েন্ট রম সক্রিয়/ফ্যাসিলিটেটরি মুভমেন্ট দ্বারা বজায় রাখা যেতে পারে।

ভালো শ্বাসযন্ত্রের অবস্থা (রেসপিরেটরি স্ট্যাটাস) বজায় রাখুন

  • পজিশনিং (রোগীর ক্ষমতার উপর নির্ভর করে)
  • শ্বাস নিয়ন্ত্রণ (ব্রিদিং কন্ট্রোল ব্যায়াম)
  • থোরাসিক প্রসারণ ব্যায়াম
  • গভীর শ্বাসের (ডীপ ব্রিদিং) ব্যায়াম

পেশী টোন স্বাভাবিক করা

  • উপরের অঙ্গ এবং নীচের অঙ্গের মাধ্যমে ওজন বহন করার ব্যায়াম।
  • একটি ভেস্টিবুলার বল ব্যবহার করে ট্রাঙ্ক সংহতকরণ।
  • একটি স্বাভাবিক প্যাটার্নে সক্রিয় হতে উৎসাহিত করা।

ভাল সংবেদনশীল উদ্দীপনা

হালকা স্পর্শ (লাইট টাচ), ক্রুড টাচ, এবং সংবেদনশীল একীকরণ (সেনসরি ইন্টিগ্রেশন) দ্বারা বিভিন্ন স্পর্শকাতর উদ্দীপনা দেওয়া।

ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করা

  • আক্রান্ত পাশ দিয়ে কোনো বস্তু স্পর্শ করে বসা অনুশীলনের ভারসাম্য বজায় রাখা।
  • ব্যায়াম অনুশীলনে ভারসাম্য বজায় রেখে সামনের দিকে, পাশের দিকে এবং সামনের দিকে এক পা রেখে দাঁড়ানো। পাশাপাশি কেন্দ্রের মূল বিন্দুকে সমর্থন করা (জিফয়েড প্রসেস এবং আট নং থোরাসিক কশেরুকার মধ্যে) এবং প্রক্সিমাল (ট্রাঙ্ক, পেলভিক, কাঁধ) সরানো এবং দূরবর্তী কী পয়েন্ট (কব্জি, হাত, গোড়ালি এবং পা) সরানো।

অবহেলা হ্রাস করুন এবং চাক্ষুষ ক্ষেত্রের (ভিজুয়াল ফিল্ড) ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ করুন

  • হেমিপ্লেজিক দিক থেকে রোগীর সাথে কথা বলে মিডলাইনের সংশোধন।
  • একের পর এক চাক্ষুষ ক্ষেত্রের উভয় অর্ধেক মাধ্যমে একটি রঙিন ছবি প্রবর্তন

গেইট পুনঃশিক্ষা

  • নির্বাচনী হাঁটু বাঁক ব্যায়াম অনুশীলন
  • অগ্রণী প্রান্তের হিল স্ট্রাইক করতে উৎসাহিত করা।
  • রোগীর পড়ে যাওয়ার ভয় থাকলে, ফিজিওথেরাপিস্ট হেমিপ্লেজিক সাইডের পেলভিক এবং হাতকে সাপোর্ট দিবেন।
  • হিল স্ট্রাইক দিয়ে প্রথমে হেমিপ্লেজিক পায়ে ধাপ করুন এবং ভালো পায়ের মাধ্যমে পার্শ্বীয় ওজন স্থানান্তর সম্পর্কে রোগীকে শিক্ষিত করা।
  • রোগী যদি আক্রান্ত পাশে হাঁটুর এক্সটেনসর মেকানিজম ভুলে যায়, ফিজিওথেরাপিস্ট আক্রান্ত হাঁটুকে স্থিতিশীল করবেন।
  • গেইট চক্রের অবস্থান এবং সুইং ফেজ সম্পর্কে রোগীকে পুনরায় শিক্ষিত করা। স্ট্যান্স ফেজ হিল স্ট্রাইক, ফুট ফ্ল্যাট, মিড স্ট্যান্স, হিল অফ, টো অফ নিয়ে গঠিত এবং সুইং ফেজ ত্বরণ, মিড সুইং এবং ডিলেরেশন নিয়ে গঠিত।
  • সিঁড়িতে ওঠার সময় আক্রান্ত পা প্রথমে যাবে তারপর ভালো পা
  • সিঁড়ি নামার সময়- ভালো পা প্রথমে যাবে, তারপর আক্রান্ত পা যাবে।

মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা

  • রোগীকে উৎসাহিত করা
  • চিকিৎসার আশ্বাস
  • স্ট্রোক সম্পর্কে কথা বলা
  • শ্রবণ এবং অনুশীলনের গুরুত্ব সম্পর্কে কথা বলা

ডিসচার্জ এবং স্থানান্তর (ট্রান্সফার) পর্যায়:

  1. সরাসরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা প্রত্যাহার করা এবং রোগীর স্বাধীনতার উপর স্থাপন করা। রোগীর দ্বারা স্ব রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মজীবনের আরো সম্পৃক্ততা বাড়ানো
  2. পরিবেশ পরিবর্তন করা- টয়লেটিং (কমোডের উচ্চতা), বিছানার উচ্চতা সামঞ্জস্য করা, রান্না (মহিলা) সামঞ্জস্য করা, চলাফেরার পরিমার্জন করা, বিভিন্ন পৃষ্ঠে হাঁটা, হাঁটার উপকরণ দেওয়া
  3. বাস, ট্যাক্সি, চেয়ার থেকে রিকশায় স্থানান্তর করা।
  4. রোগীর সামর্থ্য অনুযায়ী বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ (সেলাই, মেকানিক্স, দোকান রাখা)। রোগী যদি এসব শিখতে অসুবিধার সম্মুখীন হন, তবে ক্যারিয়ারকে এই কার্যক্রমের সাথে জড়িত করা উচিত।
  5. বৃত্তিমূলক পুনর্বাসনের জন্য রোগীকে আর্থিক সহায়তা ইত্যাদি

ফলো আপ পর্যায়:

   অ্যাকিউট স্টেজ – ৩ মাস এবং ক্রনিক স্টেজ- ৬ মাস পর

  1. রোগীর হোম ভিজিট প্রয়োজন হতে পারে- বাড়িতে রোগীকে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন কারণ এটি রোগীর অবস্থা, রোগী কী করতে পারে না, কী অগ্রগতি ঘটছে বা না তা নির্দেশ করবে।
  2. রোগীর অবস্থা পুনরায় মূল্যায়ন করা।
  3. সেকেন্ডারি জটিলতাগুলো পরীক্ষা করা- সংকোচন, জয়েন্টের শক্ততা, ব্যথাযুক্ত কাঁধ, হাঁটার সহায়ক।
  4. যদি রোগীর হাঁটার সাহায্যের সামঞ্জস্যের প্রয়োজন হয়, তবে এটি একজন ফিজিওথেরাপিস্ট দ্বারা নির্ধারিত করা প্রয়োজন।
  5. সব শেষে অগ্রগতি বা অবনতি পর্যবেক্ষণ করা।

তথ্যসূত্র:

1. Sackley, C.M. and Lincoln, N.B., 1996. Physiotherapy treatment for stroke patients: a survey of current practice. Physiotherapy Theory and Practice, 12(2), pp.87-96. – https://www.tandfonline.com/doi/abs/10.3109/09593989609036422

2. Pollock, A., Baer, G., Langhorne, P. and Pomeroy, V., 2007. Physiotherapy treatment approaches for the recovery of postural control and lower limb function following stroke: a systematic review. Clinical rehabilitation, 21(5), pp.395-410. – https://journals.sagepub.com/doi/pdf/10.1177/0269215507073438

3. Chung, B.P.H., 2014. Effect of different combinations of physiotherapy treatment approaches on functional outcomes in stroke patients: A retrospective analysis. Hong Kong Physiotherapy Journal32(1), pp.21-27. – https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S1013702513001085

Follow me
Jul 05, 2022

ডেঙ্গু হলে করণীয় কি?

ডায়াগনস্টিক টেস্টিং বেশিরভাগ দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং অনেক বাণিজ্যিক পরীক্ষাগারে ডেঙ্গু ডায়াগনস্টিক…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This field is required.

This field is required.

Call Now