ডায়াবেটিস এর লক্ষণ গুলো জেনে নিন

ডায়াবেটিস এর লক্ষণ. ডায়াবেটিস এক ধরনের মেটাবলিক রোগ যেখানে শরীর ইনসুলিন পর্যাপ্তভাবে উৎপন্ন করতে বা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়, ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ এবং এর প্রভাব শরীরের বিভিন্ন অংশে পড়ে। খাদ্য থেকে প্রাপ্ত গ্লুকোজ শরীরের প্রধান শক্তির উৎস হলেও, ইনসুলিনের অভাব বা অকার্যকারিতার কারণে গ্লুকোজ শক্তির উৎস হিসেবে সঠিকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না।

যখন আমরা খাদ্য গ্রহণ করি, তখন তা ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তপ্রবাহে মিশে যায়। স্বাভাবিক অবস্থায়, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন নিঃসরণ করে, যা কোষে গ্লুকোজের প্রবেশ সহজ করে এবং এটি শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ডায়াবেটিসে এই প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। ইনসুলিনের অভাব বা ইনসুলিন প্রতিরোধের কারণে রক্তে গ্লুকোজ জমা হতে থাকে, যা হাইপারগ্লাইসেমিয়া হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘমেয়াদী হাইপারগ্লাইসেমিয়া বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতা যেমন হৃদরোগ, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, এবং কিডনি রোগ ঘটাতে পারে। সুতরাং, ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি।

ডায়াবেটিস এর ধরণ ও প্রকরণ

** টাইপ ১ ডায়াবেটিস

টাইপ ১ ডায়াবেটিস এমন এক অটোইমিউন রোগ যেখানে শরীরের ইমিউন সিস্টেম অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী বেটা কোষগুলোকে আক্রমণ করে, যার ফলে ইনসুলিনের উৎপাদন ব্যাহত হয় বা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ইনসুলিন হলো একটি জরুরি হরমোন যা শরীরের কোষগুলিতে গ্লুকোজের প্রবেশ নিশ্চিত করে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। গ্লুকাগন নামক অন্য একটি হরমোন ইনসুলিনের সাথে সম্পর্কিতভাবে কাজ করে রক্তে গ্লুকোজের স্তর নিয়ন্ত্রণ করে।

এক সময়ে টাইপ ১ ডায়াবেটিসকে ইনসুলিন-নির্ভরশীল বা জুভেনাইল ডায়াবেটিস বলা হতো কারণ এটি প্রায়শই শিশু এবং কিশোরদের মধ্যে নির্ণিত হয়। তবে, এটি যে কোনো বয়সে উদ্ভব হতে পারে। ইনসুলিন উৎপাদনের সমস্যার কারণে, টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায়শই ইনসুলিন গ্রহণ করতে হয়।

বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে টাইপ ১ ডায়াবেটিসের প্রকোপ অপেক্ষাকৃত কম, মাত্র ৫-১০% রোগী এই ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বর্তমানে, টাইপ ১ ডায়াবেটিসের প্রতিরোধের কোনো নির্দিষ্ট উপায় জানা যায়নি। তবে, চিকিৎসা এবং নিয়মিত মনিটরিং এর মাধ্যমে এর প্রভাব কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব।

ডায়াবেটিস এর লক্ষণ গুলো জেনে নিন

টাইপ ১ ডায়াবেটিস টাইপ ২ এর তুলনায় সাধারণত কম। প্রায় ৫-১০ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগীর টাইপ ১ আছে। বর্তমানে কেউ জানে না কীভাবে টাইপ ১ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায়। তবে এই ধরণের ডায়াবেটিস রোগীর চিকিৎসা আছে।

. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা।

. রক্তে শর্করার মাত্রা ব্যবস্থাপনা।

. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো।

. ডায়াবেটিস স্বব্যবস্থাপনা শিক্ষা গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা খুঁজে নেওয়া ইত্যাদি।

টাইপ ১ ডায়াবেটিস এর লক্ষণ ও উপসর্গ:

টাইপ ১ ডায়াবেটিস একটি অটোইমিউন রোগ যেখানে শরীরের ইমিউন সিস্টেম ভুলবশত অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলিকে আক্রমণ করে। ফলে, শরীরে ইনসুলিনের প্রচুর অভাব দেখা দেয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এই রোগের লক্ষণগুলি সাধারণত দ্রুত দেখা দেয় যা নিম্নরূপ:

  1. প্রস্রাবের প্রবৃদ্ধি: শরীর অতিরিক্ত গ্লুকোজ কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দিতে চেষ্টা করে, যা ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ বাড়ায়।
  2. ক্ষুধা ও তৃষ্ণার বৃদ্ধি: কোষগুলি প্রয়োজনীয় শক্তি পাচ্ছে না বলে শরীর ক্ষুধা ও তৃষ্ণা বৃদ্ধি পায়।
  3. ঝাপসা দৃষ্টি: রক্তে উচ্চ গ্লুকোজের মাত্রা চোখের লেন্সের স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটায়, যা দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের কারণ হতে পারে।
  4. অতিরিক্ত ক্লান্তিভাব: কোষগুলি যথেষ্ট শক্তি পাচ্ছে না বলে অতিরিক্ত ক্লান্তিভাব দেখা দেয়।
  5. ওজন হ্রাস: ইনসুলিনের অভাবে শরীর চর্বি ও মাংসপেশি থেকে শক্তি উৎপন্ন করার চেষ্টা করে, যা ওজন হ্রাসের কারণ হতে পারে।

টাইপ ১ ডায়াবেটিসের একটি গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হল ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস (ডিকেএ), যা জীবনহানিকর হতে পারে। ডিকেএ-এর লক্ষণগুলি নিম্নরূপ:

  1. ফলের মতো গন্ধ নিঃশ্বাসে: শরীর চর্বি ভেঙে কিটোন উৎপন্ন করে, যা নিঃশ্বাসে ফলের মতো গন্ধ নিয়ে আসে।
  2. ত্বকের শুষ্কতা: পানিশূন্যতার কারণে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।
  3. বমি বমি ভাব: শরীরে কিটোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা বমি বমি ভাব সৃষ্টি করে।
  4. পেট ব্যথা: কিটোএসিডোসিস পেট ব্যথার কারণ হতে পারে।
  5. শ্বাসকষ্ট: এসিড-বেজ ব্যালেন্স বিঘ্নিত হলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
  6. মনোযোগের অভাব এবং বিভ্রান্তি: মস্তিষ্কের উপর কিটোনের প্রভাবে মনোযোগের অভাব এবং বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে।

যদি এই ধরনের লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসার জন্য যোগাযোগ করা উচিত।

আরও পড়ুনঃ প্রস্রাবে ইনফেকশনের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

টাইপ ১ ডায়াবেটিসএর পরবর্তী জটিলতা:

টাইপ ১ ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘকালীন উচ্চ রক্ত শর্করার মাত্রার কারণে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতায় ভোগেন। এই জটিলতাগুলি একাধিক অঙ্গ এবং ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে, যা নিম্নরূপ:

  • হৃদরোগ: ডায়াবেটিস হৃদপিণ্ডের অসুখ, যেমন করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
  • স্ট্রোক: উচ্চ রক্ত শর্করা রক্তনালীগুলির ক্ষতি করে যা মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনে বাধা দিয়ে স্ট্রোকের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
  • কিডনি রোগ: ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি হল কিডনির স্বাভাবিক কার্যকারিতার হ্রাস, যা কিডনি ফেইলিউর এ পরিণত হতে পারে।
  • চোখের সমস্যা: ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি এবং অন্যান্য চোখের সমস্যাগুলি দৃষ্টিশক্তি হানি এবং অন্ধত্বের কারণ হতে পারে।
  • দাঁতের সমস্যা: ডায়াবেটিস মুখের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে, যা দাঁতের পচন, মাড়ির রোগ, এবং অন্যান্য মুখের সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
  • স্নায়ু ক্ষয়: ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি হাত ও পায়ে ব্যথা, ঝিনঝিন, এবং অবশ লাগার কারণ হয়।
  • পায়ের সমস্যা: পায়ের ক্ষত, ইনফেকশন, এবং ব্যথা ডায়াবেটিসে বেশি দেখা যায় এবং এটি পায়ের পচন পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
  • বিষণ্ণতা: ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বিষণ্ণতার হার বেশি, যা ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্টে বাধা দেয়।
  • নিদ্রাহীনতা: রাতে প্রস্রাবের বেগ বা পায়ের সমস্যা ডায়াবেটিস রোগীদের নিদ্রাহীনতায় ভোগায়।

** টাইপ ২ ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস এর লক্ষণ গুলো জেনে নিন

টাইপ ২ ডায়াবেটিস, যা সবচেয়ে সাধারণ প্রকারের ডায়াবেটিস, শরীরে ইনসুলিন প্রতিরোধী অবস্থা তৈরি করে। এই অবস্থায় শরীরের কোষগুলি ইনসুলিনের প্রতি সাড়া দেয় না, ফলে অগ্ন্যাশয় আরও বেশি ইনসুলিন উৎপাদন করতে থাকে যা এক সময় অগ্ন্যাশয়ের কাজে ব্যাঘাত ঘটায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়।

সুখবর হলো, উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের বিকাশকে প্রতিরোধ বা বিলম্বিত করা সম্ভব। টাইপ ২ ডায়াবেটিস সাধারণত মধ্যবয়সী বা বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি হয়ে থাকে, কিন্তু এটি শৈশব বা যৌবনেও ঘটতে পারে। আপনার বয়স যদি ৪৫ বছরের বেশি হয়, পূর্বপুরুষদের ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকে, অথবা স্থূলকায় হলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বাড়ে।

বিশেষ কিছু জনগোষ্ঠীতে এই রোগের প্রবণতা বেশি দেখা যায়, যেমন আফ্রিকান আমেরিকান, হিস্পানিক বা ল্যাটিনো, আমেরিকান ইন্ডিয়ান, এশিয়ান আমেরিকান, অথবা প্যাসিফিক দ্বীপবাসী। নিয়মিত এক্সারসাইজের অভাব ও উচ্চ রক্তচাপের মতো বিশেষ কিছু স্বাস্থ্যগত রোগ টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে তোলে।

টাইপ ২ ডায়াবেটিস এর লক্ষণ ও উপসর্গ:

টাইপ ২ ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা সাধারণত ধীরে ধীরে বিকাশ পায় এবং প্রায়শই এর লক্ষণগুলি এতটাই মৃদু হয় যে তা অনেক সময় অনাদৃত থাকে। এই অবস্থায়, অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও শরীরের কোষগুলি ইনসুলিনের প্রতি সাড়া দেয় না, যা ইনসুলিন রেজিস্টেন্স হিসেবে পরিচিত। এর ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। টাইপ ২ ডায়াবেটিসের কিছু সাধারণ লক্ষণ নিম্নরূপ:

  1. প্রস্রাবের প্রবৃদ্ধি: শরীর অতিরিক্ত গ্লুকোজ বের করার চেষ্টা করে যা ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ বাড়ায়।
  2. বৃদ্ধি পাওয়া ক্ষুধা ও তৃষ্ণা: কোষগুলি প্রয়োজনীয় শক্তি পাচ্ছে না বলে শরীর ক্ষুধা ও তৃষ্ণা বৃদ্ধি পায়।
  3. ক্লান্তি: শরীর যখন খাদ্য থেকে প্রাপ্ত গ্লুকোজকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না, তখন ক্লান্তি বোধ হয়।
  4. ঝাপসা দৃষ্টি: রক্তের উচ্চ গ্লুকোজ চোখের লেন্সের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে যা দৃষ্টি সমস্যা সৃষ্টি করে।
  5. হাত ও পায়ে অসাড়তা বা ঝিনঝিন ভাব: স্নায়ুর ক্ষতির ফলে হাত ও পায়ে অসাড়তা বা ঝিনঝিন অনুভূত হতে পারে।
  6. ঘা সারতে দেরি হওয়া: উচ্চ রক্ত শর্করা রক্তনালী এবং কোষের ক্ষতি করে যা ঘা সারার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়।
  7. ওজন হ্রাস: ইনসুলিনের অভাবে শরীর ফ্যাট ও প্রোটিন থেকে শক্তি উৎপন্ন করে, যা ওজন হ্রাসের কারণ হতে পারে।

টাইপ ২ ডায়াবেটিস এর জটিলতা

যদি ডায়াবেটিসের ব্যবস্থাপনা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে যথাযথভাবে করা হয়, তাহলে এই রোগ থেকে উদ্ভূত অনেক স্বাস্থ্যগত জটিলতা এড়ানো সম্ভব। এটি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ যে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের অভাব বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা ও রোগের উদ্রেক করতে পারে, যেগুলো হল:

  1. হৃদরোগ ও স্ট্রোক: উচ্চ রক্ত শর্করার মাত্রা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
  2. স্নায়ু ক্ষয়: দীর্ঘস্থায়ী হাইপারগ্লাইসেমিয়া স্নায়ু ক্ষতি এবং নিউরোপ্যাথি সৃষ্টি করতে পারে।
  3. কিডনি রোগ: ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস করে এবং কিডনি ফেইলিউর ঘটাতে পারে।
  4. পায়ের সমস্যা: ডায়াবেটিস পায়ের ক্ষত, ইনফেকশন এবং ঘা সারার প্রক্রিয়াকে ধীর করে।
  5. চোখের রোগ: ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি এবং অন্যান্য চোখের সমস্যা দৃষ্টিশক্তি হানি এবং অন্ধত্ব সৃষ্টি করতে পারে।
  6. মাড়ির রোগ ও দন্তজনিত সমস্যা: ডায়াবেটিস মাড়ির রোগ এবং দাঁতের সমস্যা বৃদ্ধি করে।
  7. যৌন সমস্যা: ডায়াবেটিস যৌন অঙ্গের কার্যকারিতায় বাধা দেয়।
  8. মুত্রাশয়ের সমস্যা: ডায়াবেটিস মুত্রাশয়ের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে।

এছাড়াও, টাইপ ২ ডায়াবেটিসে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD), স্লিপ অ্যাপনিয়া, বিষণ্ণতা, কিছু প্রকারের ক্যান্সার, এবং ডিমেনশিয়ার মতো জটিলতা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এনএএফএলডি এবং অন্যান্য সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সমস্যাগুলির প্রতিরোধ করতে পারে। নিয়মিত চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য পরিচর্যা এই জটিলতাগুলির প্রকাশ বিলম্বিত করতে বা তাদের প্রভাব হ্রাস করতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুনঃ গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা

** গর্ভকালীন ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস এর লক্ষণ গুলো জেনে নিন

গর্ভাবস্থায় যখন মহিলাদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে, তখন তাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলা হয়। এটি সাধারণত গর্ভাবস্থার ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহের মধ্যে নির্ণয় করা হয় যখন মহিলাদের শরীর গর্ভস্থ শিশুর চাহিদা পূরণের জন্য বাড়তি ইনসুলিন উৎপন্ন করতে ব্যর্থ হয়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের প্রভাব নিম্নরূপ:

  • উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি: গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, যা প্রি-ইক্লাম্পসিয়ার মতো জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়।
  • শিশুর ওজন বৃদ্ধি: গর্ভস্থ শিশুর ওজন অত্যধিক বৃদ্ধি পেতে পারে (ম্যাক্রোসোমিয়া), যা প্রসবের সময় জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
  • প্রিটার্ম বার্থ: গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সময়ের আগে শিশুর জন্মের ঝুঁকি বাড়ায়, যা নবজাতকের শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
  • নিওনাটাল হাইপোগ্লাইসেমিয়া: জন্মের পরে শিশুর ব্লাড সুগার কমে যেতে পারে, যা তার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
  • মায়ের ও শিশুর দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি: গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকা মহিলাদের এবং তাদের শিশুদের ভবিষ্যতে টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

** প্রিডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস এর লক্ষণ গুলো জেনে নিন

প্রিডায়াবেটিস হলো একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা, যেখানে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে তবে তা টাইপ ২ ডায়াবেটিস হিসেবে নির্নয় করার মতো যথেষ্ট নয়।

আপনার বহু বছর ধরে প্রিডায়াবেটিস থাকতে পারে কিন্তু কোন স্পষ্ট লক্ষণ ও উপসর্গের প্রকাশ নাও থাকতে পারে। তাই প্রায়শ টাইপ ২ ডায়াবেটিস দেখা না দেওয়া পর্যন্ত প্রিডায়াবেটিস শনাক্ত করা যায় না। যারা প্রিডায়াবেটিস হবার ঝুঁকিতে আছেন:

১. অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলকায়

২. টাইপ ২ ডায়াবেটিস এর পারিবারিক ইতিহাস

৩. বয়স ৪৫ বা তার বেশি

৪. শারীরিকভাবে সক্রিয় না থাকা, অলস জীবনযাপন করা

৫. গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এর ইতিহাস

৬. পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম রোগী

আরও পড়ুনঃ ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার কারণ ও প্রতিকার

** মনোজেনিক ডায়াবেটিস (নিওনেটাল ডায়াবেটিস মেলিটাস ও ম্যাচুরিটি অনসেট ডায়াবেটিস অব দ্যা ইয়াং – এমওডিওয়াই)

ডায়াবেটিস এর লক্ষণ গুলো জেনে নিন

কিছু বিরল প্রকরণের ডায়াবেটিস মিউটেশন বা একক জিনের পরিবর্তনের কারণে হয়ে থাকে, যাদেরকে মনোজেনিক ডায়াবেটিস বলে। মনোজেনিক ডায়াবেটিসের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, জিনগত মিউটেশন পিতা, মাতা বা উভয়ের কাছ থেকেই উত্তরাধিকারসূত্র পাওয়া। তবে কখনো কখনো জিন মিউটেশন স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকশিত হয়, যার অর্থ এই মিউটেশনটি পিতামাতা কেউই বহন করেন না। মনোজেনিক ডায়াবেটিস সৃষ্টিকারী বেশিরভাগ মিউটেশন অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিন তৈরীর ক্ষমতা হ্রাস করে।

নিউনেটাল ডায়াবেটিস মেলিটাস – এনডিএম এবং ম্যাচুরিটি অনসেট ডায়াবেটিস অব দ্যা ইয়াং – এমওডিওয়াই হলো মনোজেনিক ডায়াবেটিসের দুট প্রধান রূপ।

এনডিএম: নবজাতক ও অল্পবয়স্ক শিশুদের মধ্যে ঘটে। এর লক্ষণ ও উপসর্গের মধ্যে আছে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা, দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়া, পানিস্বল্পতায় ভোগা ইত্যাদি।

এমওডিওয়াই: এনডিএমের তুলনায় বেশি হয় এবং সাধারণত প্রথম বয়ঃসন্ধিকাল বা যৌবনের প্রথম দিকে ঘটে। এর লক্ষণ ও উপসর্গগুলো জিনগত মিউটেশন এর উপর নির্ভর করে। নির্দিষ্ট ধরণের মিউটেশনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে শর্করার মাত্রা সামান্য বেশি থাকতে পারে বা সারা জীবন স্থিতিশীল থাকে। তাদের ডায়াবেটিসের তেমন কোন লক্ষণ থাকে না এবং দীর্ঘমেয়াদী কোন জটিলতাও তৈরী হয়না।

** সিস্টিক ফাইব্রোসিস সম্পর্কিত ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস এর লক্ষণ গুলো জেনে নিন

সিস্টিক ফাইব্রোসিস সম্পর্কিত ডায়াবেটিস (সিএফআরডি) হলো একটি অনন্য প্রকরণের ডায়াবেটিস, যা সিস্টিক ফাইব্রোসিস রোগীদের মধ্যে দেখা যায়।

এই রোগে আক্রান্তদের ঘন,  আঠালো মিউকাস অগ্ন্যাশয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে। এই ক্ষত অগ্ন্যাশয়কে স্বাভাবিক মাত্রায় ইনসুলিন তৈরী করতে বাধা দেয়। ফলে, টাইপ ১ ডায়াবেটিস রোগীদের মতো, তাদের শরীরে ইনসুলিন ঘাটতি দেখা দেয়। যদিও এই রোগীদের শরীরে কিছু পরিমানে ইনসুলিন তৈরী হয় তবে তা সুস্থতা বজায় রাখতে যথেষ্ট নয়। ২০১৯ সালের সি এফ ফাউন্ডেশন এর রোগীদের রেজিস্ট্রি অনুযায়ী, সিস্টিক ফাইব্রোসিসে আক্রান্ত প্রায় ২০ শতাংশ লোকের সিএফআরডি রয়েছে। সিএফআরডি টাইপ ১ ও টাইপ ২ – উভয় ধরণের ডায়াবেটিসের বেশ কিছু লক্ষণ ও উপসর্গ শেয়ার করে।

উপরন্তু, টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মতো, বিশেষ করে অসুস্থ, স্টেরয়েড ওষুধ খাচ্ছেন এমন বা গর্ভবতী সিএফআরডি রোগীরা ইনসুলিনের প্রতি সাড়া নাও দিতে পারেন। এটিকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বলা হয়।

সিএফআরডিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কোন লক্ষণ বা উপসর্গ নাও থাকতে পারে। ডায়াবেটিসের কিছু লক্ষণ সিস্টিক ফাইব্রোসিস এর লক্ষণের সাথে মিলে যায়। অনেকে ডায়াবেটিস এর জন্য পরীক্ষা করানোর আগ পর্যন্ত জানতেও পারেন না যে তাদের সিএফএরডি আছে।

কিছু সাধারণ লক্ষণ ও উপসর্গ হলো ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ ও তৃষ্ণা বৃদ্ধি, যা রক্তে শর্করা বৃদ্ধির কারণে হয়ে থাকে (হাইপারগ্লাইসেমিয়া)। সিস্টিক ফাইব্রোসিস সম্পর্কিত ডায়াবেটিস এর অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে আছে অত্যধিক ক্লান্তিভাব, ওজন হ্রাস, ফুসফুসের কার্যকারিতায় অব্যক্ত হ্রাস ইত্যাদি।

তথ্যসূত্রঃ

  1. https://www.cdc.gov/diabetes/basics/diabetes.html
  2. https://www.niddk.nih.gov/health-information/diabetes/overview/what-is-diabetes
  3. https://www.diabetes.org/
  4.  https://www.cdc.gov/diabetes/basics/what-is-type-1-diabetes.html
  5.  https://www.niddk.nih.gov/health-information/diabetes/overview/what-is-diabetes/type-1-diabetes
  6.  https://www.cdc.gov/diabetes/basics/type2.html
  7. https://www.niddk.nih.gov/health-information/diabetes/overview/what-is-diabetes/type-2-diabetes
  8. https://www.cdc.gov/diabetes/basics/gestational.html
  9. https://www.niddk.nih.gov/health-information/diabetes/overview/what-is-diabetes/gestational
  10.  https://www.cdc.gov/diabetes/basics/prediabetes.html
  11.  https://www.niddk.nih.gov/health-information/diabetes/overview/what-is-diabetes/monogenic-neonatal-mellitus-mody
  12.  https://www.cff.org/managing-cf/cystic-fibrosis-related-diabetes
Follow me
পরামর্শ নিতে 01877733322