আমাদের মধ্যে অনেকেরই প্রায়শই পিঠে জ্বালাপোড়া হয়ে থাকে। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে খুবই অল্পমাত্রায় শুরু হলেও যত দিন যায় এটি বাড়তে থাকে এবং একসময় এমন একটি পর্যায়ে পৌছায় যে পিঠের যন্ত্রণায় নড়াচড়া করা বা সোজা হয়ে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পরে। পিঠের এই জ্বালাপোড়া অনেক ক্ষেত্রেই তীব্র মাত্রায় হতে পারে যা মাত্র কয়েক দিন বা সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে আবার দেখা যায় অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন। এটি আপনার দৈনন্দিন কাজকর্মকে ব্যাহত করে এবং এমনকি খুব সামাণ্য নড়াচড়াও আপনার কাছে ভয়ানক বলে মনে হতে পারে৷

পিঠের জ্বালাপোড়া, যন্ত্রণা বা ব্যথাসমূহ আমাদের জীবনযাত্রার মানের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এটি বিশ্বব্যাপী অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ এবং ছোট থেকে বড় প্রায় যেকোন বয়সের মানুষই এ সমস্যায় ভুগে থাকেন। এ রোগে আক্রান্তদের স্বাভাবিক চলাফেরার গতি কমে যায়, সঠিকভাবে কাজকর্ম করতে পারেননা, পিঠের যন্ত্রণায় রোগী চাইলেও কোন বিনোদনমূলক আয়োজন বা খেলাধুলায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন না এমনকি অনেকেই দেখা যায় দিনে দিনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। জীবনকে হাস্যোজ্জ্বল রাখতে এবং সুস্থভাবে বাঁচতে পিঠে জ্বালাপোড়া হবার সঠিক কারণ নির্ণয় করা এবং সঠিক জায়গায় সঠিক চিকিৎসা নেয়া অত্যন্ত জরুরী।

Contents hide

পিঠের মেরুদন্ডের গঠন এবং এর গুরুত্ব

পিঠের মেরুদন্ডের গঠন এবং এর গুরুত্ব

আমাদের পিঠের মেরুদন্ডের অংশটিকে মেডিকেলের ভাষায় থোরাসিক স্পাইনও বলা হয়। এটি ঘাড়ের নিচ থেকে শুরু হয়ে কোমরের আগ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে থাকে। বারোটি হাড় দিয়ে পিঠের মেরুদন্ড গঠিত। দালানকোঠায় ব্লকগুলো যেরকম সাড়িবদ্ধভাবে বসানো থাকে তেমনি ভাবে আমাদের পিঠের মেরুদন্ডের অংশে কশেরুকা গুলোও একের পর এক সারিবদ্ধ ভাবে বসানো থাকে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের পিঠ বা পিঠের মেরুদন্ড কেন এতটা গুরুত্বপূর্ণ? ধরে নিন এটি আমাদের শরীরের সাপোর্ট সিস্টেম। এটি আমাদের শরীরকে সোজা করে ধরে রাখে,পাঁজরের হাড় গুলো যেগুলোকে আমরা রিবস বলি মেরুদন্ড হাড়ের সাথে সংযুক্ত হয়ে একটি সুরক্ষা কবজ তৈরি করে যেখানে হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস নিরাপদে সংরক্ষিত থাকে। এটি আমাদের শরীরের নাড়াচড়া এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। একটি বিল্ডিং এর পিলার যেরকমভাবে পুরো বিল্ডিংটাকে ধরে রাখে তেমনি ভাবে আমাদের পিঠ এবং পিঠের মেরুদন্ড পুরো শরীরকে ধরে রাখে এবং একটি শক্তিশালী কাঠামো প্রদান করে।

পিঠের জ্বালাপোড়া নিয়ে কিছু কথা

কখনোও কি এমন হয়েছে যে আপনার পিঠের কোন অংশ হঠাৎ করে গরম হয়ে যাচ্ছে অথবা পিঠে জ্বলে যাওয়ার ভাব হচ্ছে, পিঠের জ্বালাপোড়া বলতে আমরা এটাকেই বুঝাচ্ছি। শু্রু শুরুতে এটি অল্প মাত্রায় শুরু হয় এবং যত দিন যায় জ্বালাপোড়ার মাত্রা বাড়তে থাকে। আবার অনেক সময় মনে হবে যে আপনার পিঠে কেউ যেন আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু এই জ্বালাপোড়ার মানে কি বোঝায়! এটি কি আপনার শরীরে কোন বিশেষ রোগের আগাম বার্তা দিচ্ছে! যেমন হতে পারে আপনি ভারী কিছু তুলতে গিয়ে পিঠের মাংস পেশীতে টেন লেগেছে কিংবা দীর্ঘ সময় কুজো হয়ে বসে থাকার কারণেও এ জ্বালাপোড়া হতে পারে। অথবা এমনও হতে পারে আপনার পিঠের মেরুদন্ডের নার্ভে সমস্যা হচ্ছে। সুতরাং এই জ্বালাপোড়াকে আমাদের একটি সতর্কবার্তা হিসেবে ভাবতে হবে যার দ্বারা বুঝে নিতে হবে যে আমাদের পিঠ বা পিঠের মেরুদন্ডের কোন অংশে কোন একটিদ অসুবিধা হচ্ছে।

সুতরাং আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত নিজের শরীরকে জানা, শরীরের যেকোন ধরনের সমস্যা হলে এটি সম্পর্কে সতর্ক হওয়া যাতে আমরা খুবই দ্রুত চিকিৎসা নেয়ার মাধ্যমে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে পারি।

পিঠে জ্বালাপোড়া হবার নির্দিষ্ট কারণসমূহ

পিঠে জ্বালাপোড়া হবার নির্দিষ্ট কারণসমূহ

মাসেল স্ট্রেইন এবং ওভার ইউস ইঞ্জরি

আমরা যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বসে থাকি, কম্পিউটারের কাজ করি অথবা জিমে গিয়ে শরীর চর্চা করি এবং ভারী কাজের সাথে জড়িত তাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক সময় কাজ করার সময় কোমড়ে হঠাৎ করে টান লাগে। এই টান লাগাকেই আমরা মাসেল স্ট্রেইন বলে থাকি। একই কাজ দীর্ঘদিন ধরে করতে থাকলে মাংসপেশীগুলো দুর্বল হয়ে যায় এবং সেগুলো শরীরের লোড নিতে পারে না যার পরিণতি হিসেবে পেশীতে টান পড়ে।

এই মাংসপেশিতে টান লাগলে আপনার পিঠে একটি তীব্র জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভব করতে পারেন এবং এই ব্যথাটি আপনার নড়াচড়া, সামনের দিকে ঝোকা বা বাকানো ইত্যাদি কাজে বেড়ে যেতে পারে।

থোরাসিক হার্নিয়েটেড ডিস্ক

আমাদের মেরুদন্ডের কশেরুকাগুলোর মাঝখানে জেলীর মত একটি নরম ও নমনীয় বস্তু থাকে যেটিকে ডিস্ক বলা হয়। এটি আমাদের শরীরের মেরুদন্ডের স্প্রিং হিসেবে কাজ করে। অনেক সময় দুর্ঘটনায় বা আঘাত জনিত কারণে এই স্প্রিং থেকে জেল বের হয়ে পার্শ্ববর্তী নার্ভে চাপ দেয়। এর ফলে পিঠে তীব্র জ্বালাপোড়া,ব্যথা কিংবা অবশ অবশ লাগতে পারে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি ঘাড় ও কোমরের মেরুদন্ডেই হয়ে থাকে।

মাইলোপ্যাথি

অনেক সময় দেখা যায় দুর্ঘটনার ফলে আমরা পিঠে আঘাত পেয়ে থাকি, যার ফলে আমাদের পিঠের মেরুদন্ডের হার ফ্র্যাকচার হতে পারে। এই ফ্র্যাকচার এর পরিমাণ যদি বেশি হয় তাহলে মেরুদন্ডের হাড়ের মাঝখানে যে স্পাইনাল কর্ড থাকে সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সরাসরি স্পাইনাল কর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে মাইলোপ্যাথি বলা হয়। যদিও মাইলোপ্যাথি খুব কমই দেখা যায় তবে কেবলমাত্র বড় ধরনের আঘাতের কারণেই মাইলোপ্যাথি হয়। মাইলোপ্যাথির বেশ কিছু লক্ষণ বিদ্যমান যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে যেই অংশটিতে মাইলোপ্যাথি হয় তার নিচের দিকে বা দূরবর্তী হাত বা পা প্যারালাইসিস হয়ে যেতে পারে, জ্বালাপোড়া হয়, রোগী সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা হাড়িয়ে ফেলে এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে প্রশ্রাব পায়খানা ধরে রাখতেও অসুবিধা হতে পারে।

অস্টিওপোরোসিসজনিত ফ্র্যাকচার

গবেষণায় দেখা গিয়েছে যাদের বয়স 40 এর বেশি হয় তাদের হাড় ক্ষয় শুরু হয়। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে এটি বেশি দেখা যায়। ধীরে ধীরে হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে যায়, হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। আর এই ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার প্রবণতাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অস্টিওপোরোসিস বলা হয়।এই রোগ হলে আমাদের হাড়গুলো লোড নিতে পাড়ে না। খুব অল্প চাপেই ভেঙে যায় বা ফ্র্যাকচার হয়ে যায়। পিঠের মেরুদন্ডের ফ্র্যাকচার হলেও পিঠের দিকে জ্বালাপোড়া তীব্র ব্যথা ও যন্ত্রণা হয়ে থাকে।

বাত জনিত কারণ

কিছু কিছু বাত আছে যেগুলো হলে আমাদের শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা হয়, জয়েন্ট ফুলে যায়, লাল হয়ে যায়। এমনকি হাড়ের আকৃতিগত পরিবর্তনও ঘটতে পারে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে এংকাইলোজিং স্পন্ডাইলেটিসাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস,গাউট। এগুলোর মধ্যে কিছু আছে বয়স ৪০ পাড় হলে হয়ে থাকে আবার কিছু কিছু অল্প বয়সেই হয়। এংকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস হলে মেরুদন্ডের কশেরুকাগুলো জোড়া লেগে যায়। অনেকক্ষেত্রেই মেরুদণ্ডটি বাশের মত সোজা হয়ে যায়। রোগী সামনে বা পিছনে ঝুকতে পারেনা। পিঠে তীব্র ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হয়।

স্পাইনাল স্টেনোসিস

স্পাইনাল স্টেনোসিস হলে আমাদের মেরুদন্ডের ক্যানেল সংকোচিত হয়ে যায়। এতে করে ক্যানেলের মধ্যে দিয়ে যে নার্ভ যায় সেটিতে চাপ পড়ে যার ফলে মেরুদন্ড থেকে ব্যথাটি পিঠের দিকে চলে যায় এবং পিঠে জ্বালাপোড়া হয় একই সাথে ঝিন-ঝিন, ভার-ভার, অবশ-অবশ লাগতে পারে।

স্পাইনাল টিউমার

যদি মেরুদন্ডে টিউমার হয়ে থাকে তাহলেও আমাদের পিঠে ব্যথা জ্বালাপোড়া হতে পারে। এটা নির্ভর করে মেরুদন্ডের কোন অংশে টিউমারটি হচ্ছে তার উপর। টিউমার যদি মেরুদন্ডের পিঠের অংশে হয় তাহলে পিঠে জ্বালাপোড়া বা যন্ত্রণা হয়।

শোয়ারম্যান ডিজিজ

কিশোর বয়সে একটি রোগ হতে পারে যেটিকে শোয়ারম্যান ডিজিজ বলা হয়। এ রোগ হলে মেরুদন্ডের কশেরুকা গুলোর সঠিক বৃদ্ধি ঘটে না। যার ফলে আক্রান্তদের পিঠের মেরুদন্ডের বিকৃতি ঘটে এবং পিঠ কুজো হয়ে যায়। মেরুদন্ডের এই আকৃতিগত পরিবর্তন এর কারণে পিঠে জ্বালাপোড়া হয় এবং ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি হয়।

হার্পিস জোসটার

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ভাইরাস জনিত কারণে লাল লাল র‍্যাশ ও ফুশকুড়ি হয়। এটি হারপিস জোস্টার ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে এবং এই রোগটি শিংগেলস নামেও পরিচিত। শিংগেলস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বুকে এবংপিঠের দিকে হয়ে থাকে যার দরুণ বুক ও পিঠে জ্বালাপোড়া বা যন্ত্রণা হয়।

এসিড রিফ্লাক্স এবং পিঠের জ্বালাপোড়া

যখন আমাদের পাকস্থলীর গ্যস্ট্রিক জুস আমাদের খাদ্যনালীতে চলে আসে, তখন আমাদের বুকে জ্বালাপোড়া হয় এটাকে আমরা এসিডিটি হিসেবেও জানি। আশ্চর্যজনকভাবে, এটির কারণেও পিঠে জ্বালাপোড়া হতে পারে। এই জ্বালাপোড়াটি বুকে বা পিঠ থেকে শুরু হলেও ধীরে ধীরে পিঠের দিকে ছড়িয়ে যায়।

মনস্তাত্ত্বিক কারণ

আপনি বিশ্বাস করুন বা নাই করুন আমাদের পিঠের ব্যথা বা জ্বালা পোড়ার জন্য আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যও অনেকাংশেই দায়ী হতে পারে। আমরা যারা অতিরিক্ত মানসিক টেনশন করি তাদের পিঠের মাংসপেশীতে প্রচুর স্ট্রেস পড়ে। এতে করে মাংসপেশীগুলো স্পাজম ও টাইট হয়ে যায়। এর পরিণতিতে পিঠে বা কোমড়ে জ্বালা-যন্ত্রণা হয়।

অন্যান্য রোগের মাধ্যমে

কিছু রোগ আছে যেগুলো আমাদের পুরো শরীরকে প্রভাবিত করে থাকে, যেমন ফাইব্রোমায়ালজিয়া বা সিস্টেমিক লুপাস।এই রোগগুলোর কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশ আক্রান্ত হবার পাশাপাশি পিঠ ধরে থাকা এবং পিঠে জ্বালা বা যন্ত্রণাও হয়ে থাকে।

রোগ নির্ণয় পদ্ধতি

পিঠে যদি জ্বালাপোড়া হয়ে থাকে তাহলে আমাদের অবশ্যই উচিত দেরী না করে জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসকের সরণাপন্ন হওয়া। চলুন জেনে নেয়া যাক পিঠের জ্বালাপোড়ার কারণ কোন কোন উপায়ে শণাক্ত করা সম্ভব।

ফিজিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট

ফিজিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট হচ্ছে যে কোন রোগ নির্ণয়ের সর্বপ্রথম ধাপ। চিকিৎসক আপনার আক্রান্ত স্থানটি ফুলে আছে কিনা, প্রদাহ হচ্ছে কিনা অথবা কোন ধরনের অস্বাভাবিক কোন লক্ষণ বিদ্যমান কিনা সেটা চেক করবেন। চিকিৎসক আপনার মেরুদন্ডের এবং পিঠের স্বাভাবিক গতিবিধি পরীক্ষা করবেন। আপনাকে সামনে ঝোকা, পিছনের দিকে বাকা হওয়া এবং ডানে-বামে ঘুড়তে বলা হবে এবং এই মুভমেন্ট গুলো করার সময় আপনার পিঠে জ্বালাপোড়া, যন্ত্রণা কিংবা ব্যথা বেড়ে যাচ্ছে কিনা সেটিও চেক করা হবে।

ইতিহাস গ্রহণ

এ ধাপে এসে চিকিৎসক আপনার রোগের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ শুনবেন। জ্বালাপোড়া কতদিন থেকে হচ্ছে, কিভাবে শুরু হয়েছে, আপনি কোন আঘাত পেয়েছিলেন কিনা, আপনি যে কাজটি করেন সেটিতে দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকা হয় কিনা ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতে পারেন। কারণ এই সকল তথ্যের সাথে আপনার রোগের একটি যোগসূত্র বিদ্যমান।

ইমেজিং এবং পরীক্ষা

এমআরআই এবং সিটি স্ক্যান

এমআরআই এবং সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে আমাদের শরীরের গভীরের হাড়, মাংসপেশি কিংবা নার্ভের অবস্থান খুব চমৎকার ভাবে দৃশ্যমান হয়। যদি হাড়ে ফ্র্যাকচার হয়ে থাকে কিংবা মাংসপেশীতে টান লেগে থাকে এমনকি নার্ভের কোন অংশে যদি চাপ লেগে থাকে সেটিও এমআরআই এর মাধ্যমে সনাক্ত হয়।

ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি (ইএমজি)

ইএমজি বা ইলেক্ট্রোমায়োগ্রাফি হচ্ছে একটি বিশেষ ধরনের পরীক্ষা যার মাধ্যমে মাংসপেশী এবং সেগুলো নিয়ন্ত্রণকারী নার্ভগুলো কতটুকু ভালো আছে তা চেক করা যায়। এই পরীক্ষায় মাংসপেশীর ভিতরে একটি সরু সুচ ঢোকানো হয় যার মাধ্যমে পেশীতে যেসকল ইলেক্ট্রিক্যাল ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া হয় তার রিডিং সংগ্রহ করা হয়। যদি আপনার পিঠের জ্বালাপোড়া নার্ভের সমস্যার জন্য হয়ে থাকে তাহলে সেটি এই পরীক্ষার দ্বারা নির্ণয় করা সম্ভব।

রক্ত পরীক্ষা

রক্ত ​​পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা আমাদের শরীরের ভিতরে কি কি ঘটনা ঘটতেছে তা খুব সহজেই জানা সম্ভব। আপনি বাতের রোগী কিনা, আপনার শরীরে প্রদাহ হচ্ছে কিনা, আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিনা এমনকি আপনি রক্ত শূণ্যতায় ভুগছেন কিনা ইত্যাদি তথ্যাদি আমরা কেবলমাত্র একটি রক্ত পরীক্ষার মাধ্যেম সনাক্ত করতে পারি। এই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেও পিঠের জ্বালাপোড়া কারণ সনাক্তকরণ সম্ভব।

চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা

বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসা বিজ্ঞান এতটাই এগিয়ে গিয়েছে যে একটি রোগের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। ঠিক একইভাবে পিঠের জালাপোড়ায় ও ওষুধের পাশাপাশি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতিও বিদ্যমান। আমরা একের পর এক প্রতিটি চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করব।

ওষুধ

ব্যাথা কমানোর ওষুধ

ব্যাথার চিকিৎসায় বিভিন্ন ধরনের ব্যথার ওষুধ বিদ্যমান। কোন ধরনের রোগের জন্য কোন প্রকৃতির ব্যথার ওষুধ খাবেন এটা কেবলমাত্র চিকিৎসকই নির্ধারণ করবেন। বেশ কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের ওষুধ সেবন করা উচিৎ নয়। কিছু কিছু ব্যথার ওষুধ আছে যেগুলোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া খুবই কম এদেরকে আমরা ওভার দ্য কাউন্টার পেইন মেডিকেশন বলে জানি। এর মধ্যে এসিটামিনোফেন বা আইবুপ্রোফেন বেশ কার্যকরী। এগুলো সেবনে পিঠের যন্ত্রণায় আপনি বেশ আরাম বোধ করবেন।

প্রদাহ কমানোর ওষুধ

যদি আপনার ব্যথার পাশাপাশি প্রদাহ হয় তাহলে সেক্ষেত্রে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগগুলি বেশ কার্যকর। এ ধরনের ওষুধগুলো অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের মত আপনার পিঠের ব্যথা, জ্বালাপোড়া এবং প্রদাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ফিজিওথেরাপি এবং পুনর্বাসন

পিঠের জ্বালাপোড়ার চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফিজিওথেরাপি হচ্ছে এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যেই পদ্ধতিতে কোন রকম ওষুধ কিংবা অপারেশন ছাড়াই শুধুমাত্র ব্যায়ামের মাধ্যমে ব্যথা কমানো সম্ভব। একজন গ্র্যাজুয়েট ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক ই কেবলমাত্র ফিজিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট এর মাধ্যমে পিঠের জ্বালাপোড়ার কারণ সনাক্ত করে আপনাকে সঠিক চিকিৎসা প্রদান করতে পারে। বিভিন্ন পদ্ধতিতে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা প্রদান করা হয়ে থাকে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আপনার পিঠের দুর্বল মাংসপেশীর শক্তি বাড়ানো, পিঠের মেরুদন্ডের নমনীয়তা বৃদ্ধি করা এবং ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে পিঠের ব্যথা কমানো। ব্যথা কমে গেলে চিকিৎসক আপনাকে বেশ কিছু ব্যায়াম শিখিয়ে দিবেন যেগুলো আপনি বাসায় নিয়মিত করলে পিঠের জ্বালাপোড়া বা যন্ত্রণা পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেকখানি কমে যায়।

তথ্যসূত্র

  1. Lemire JJ, Mierau DR, Crawford CM, Dzus AK. Scheuermann’s juvenile kyphosis. J Manipulative Physiol Ther. 1996 Mar-Apr;19(3):195-201. PMID: 8728463. https://pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/8728463/
  2. Gilden, D.H., Kleinschmidt-DeMasters, B.K., LaGuardia, J.J., Mahalingam, R. and Cohrs, R.J., 2000. Neurologic complications of the reactivation of varicella–zoster virus. New England Journal of Medicine, 342(9), pp.635-645. https://www.nejm.org/doi/full/10.1056/nejm200003023420906
  3. Haas, M., Groupp, E., Panzer, D., Partna, L., Lumsden, S. and Aickin, M., 2003. Efficacy of cervical endplay assessment as an indicator for spinal manipulation. https://journals.lww.com/spinejournal/fulltext/2003/06010/efficacy_of_cervical_endplay_assessment_as_an.2.aspx
  4. Modic, M.T., Obuchowski, N.A., Ross, J.S., Brant-Zawadzki, M.N., Grooff, P.N., Mazanec, D.J. and Benzel, E.C., 2005. Acute low back pain and radiculopathy: MR imaging findings and their prognostic role and effect on outcome. Radiology, 237(2), pp.597-604. https://pubs.rsna.org/doi/abs/10.1148/radiol.2372041509
  5. Trescot, A.M., Hansen, S.H.H., Benyamin, R., Glaser, S.E., Adlaka, R., Patel, S. and Manchikanti, L., 2008. Opioids in the management of chronic non-cancer pain: an update of American Society of the Interventional Pain Physicians?(ASIPP) Guidelines. Pain physician, 11(2S), p.S5. https://www.academia.edu/download/39105094/0046351a0ec592fad6000000.pdf
  6. Hides, J.A., Jull, G.A. and Richardson, C.A., 2001. Long-term effects of specific stabilizing exercises for first-episode low back pain. Spine, 26(11), pp.e243-e248. https://journals.lww.com/spinejournal/fulltext/2001/06010/long_term_effects_of_specific_stabilizing.4.aspx
  7. Weinstein, J.N., Lurie, J.D., Tosteson, T.D., Tosteson, A.N., Blood, E.A., Abdu, W.A., Herkowitz, H., Hilibrand, A., Albert, T. and Fischgrund, J., 2008. Surgical versus nonoperative treatment for lumbar disc herniation: four-year results for the Spine Patient Outcomes Research Trial (SPORT). Spine, 33(25), pp.2789-2800. https://journals.lww.com/spinejournal/fulltext/2008/12010/Surgical_Versus_Nonoperative_Treatment_for_Lumbar.15.aspx
  8. Gallagher, K.M., Campbell, T. and Callaghan, J.P., 2014. The influence of a seated break on prolonged standing induced low back pain development. Ergonomics, 57(4), pp.555-562.https://www.tandfonline.com/doi/abs/10.1080/00140139.2014.893027
  9. Macedo, L.G., Maher, C.G., Latimer, J. and McAuley, J.H., 2009. Motor control exercise for persistent, nonspecific low back pain: a systematic review. Physical therapy, 89(1), pp.9-25. https://academic.oup.com/ptj/article-abstract/89/1/9/2737552
  10. Weaver, C.M., Gordon, C.M., Janz, K.F., Kalkwarf, H.J., Lappe, J.M., Lewis, R., O’Karma, M., Wallace, T.C. and Zemel, B., 2016. The National Osteoporosis Foundation’s position statement on peak bone mass development and lifestyle factors: a systematic review and implementation recommendations. Osteoporosis international, 27, pp.1281-1386. https://link.springer.com/article/10.1007/s00198-015-3440-3
Follow me

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This field is required.

This field is required.

পরামর্শ নিতে 01975451525