মানব দেহের মেরুদন্ডের পিঠের  অংশটি বারোটি কশেরুকা (T1 থেকে T12) নিয়ে গঠিত। মেরুদণ্ডের এই অংশটি স্থিতিশীলতার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং শরীরকে সোজা রাখতে ও বিশেষ অঙ্গগুলিকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাঁজরের হাড়গুলো কশেরুকার সাথে যুক্ত হয়ে বক্ষ পিঞ্জর তৈরি করে। থোরাসিক মেরুদণ্ডটির উপরের দিকের সার্ভাইকাল (ঘাড়) এবং নিচের দিকের লাম্বার বা কোমরের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

পেশী, লিগামেন্ট, স্নায়ু এবং ইন্টারভার্টেব্রাল ডিস্কগুলিও ডোরসাল বা পিঠের  অঞ্চলের অংশ গঠন করে, এবং এগুলোর কোন সমস্যা হলে পিঠে ব্যথা হতে পারে। পিঠে ব্যথা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন তীব্র ব্যথা, ঝিন-ঝিন, ভার-ভার,অবশ-অবশ, বা জ্বালাপোড়াও হতে পারে। এই ব্যথা পিঠের এক যায়গায় থাকতে পারে বা অন্যান্য অংশে দেখা দিতে পাড়ে ,যেমন হাতে বা পায়ে ছড়িয়ে যেতে পারে। পিঠে ব্যথা একটি বড় সমস্যা যা বিভিন্ন কারণের কারণে হতে পারে যেমন পেশী স্ট্রেন, আঘাত, বিকৃত ভঙ্গিতে বসা বা দাঁড়ানো বা অন্য কোনো রোগের জন্যও হতে পারে।

পিঠে ব্যথার কারণসমূহ

পিঠে ব্যথার কারণসমূহ
  • ভারী বস্তু  উত্তোলনের সময় পেশীতে টান লাগা বা হঠাৎ দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থেকে ওঠার পর হাটতে গিয়ে পেশী বা লিগামেন্টে টান লাগা।
  • বিকৃত  ভঙ্গি এবং বিলাসবহুল জীবনধারা। 
  • খেলতে গিয়ে পেশী ছিরে যাওয়া এবং লিগামেন্টে টান লাগা।
  • ডিস্ক হার্নিয়েশন বা স্লিপড ডিস্ক।
  • অস্টিওআর্থ্রাইটিস এবং স্পাইনাল স্টেনোসিস।
  • স্কোলিওসিস বা মেরুদণ্ড বেঁকে যাওয়া।
  • কাইফোসিস বা মেরুদণ্ড সামনের দিকে ঝুকে যাওয়া।
  • মেরুদণ্ডের ইনফ্লামেশন, ক্যান্সার এবং টিউমার।
  • অটোইমিউন রোগ যেমন এঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস 
  • লাইফস্টাইলজনিত কারণগুলি, যেমন দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, ভারী বস্তু উত্তোলন কিংবা শরীর চর্চা না করলেও পিঠে ব্যথা হতে পারে।
  • অস্টিওপোরোসিস জনিত ফ্র্যাকচার।

পিঠে ব্যথার প্রকার

  • তাৎক্ষনিক ব্যথাঃ এ ধরনের ব্যথায় দেখা যায় হঠাৎ করেই তীব্র পীঠে ব্যথা হয় এবং সাধারণত অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ ব্যথাগুলো আঘাত বা স্ট্রেন দ্বারা সৃষ্ট হয়।
  • দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাঃ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থায়ী হয়, সাধারণত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে, এবং ডিজেনারেটিভ ডিস্ক রোগ বা দীর্ঘদিনের পোশ্চারাল সমস্যার থেকে হতে পারে।
  • নিদিষ্ট জায়গায় (লোকালাইজড) ব্যথাঃ লোকালাইজড ব্যথা একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ এবং প্রায়শই সনাক্ত করা এবং চিকিৎসা করা সহজ।
  • ছড়িয়ে পড়া (ডীফীঊজ) ব্যথাঃ এই ব্যথা  বেশী যায়গা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং এটি নির্ণয় এবং চিকিৎসা দেওয়া খূব চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, কারণ এটি পীঠের মধ্যে একাধিক অংশকে আক্রমণ করতে পারে। 

আরও পড়ুনঃ পিঠে জ্বালাপোড়া করার কারণ

জটিলতা এবং কখন চিকিৎসা নিতে হবে

যদি পীঠে ব্যথা কয়েক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকে, দৈনন্দিন জীবনের  কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়, অথবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে গুরুতর দুর্বলতা, অকারণে ওজন হ্রাস, জ্বর, প্রসাব পায়খানা ধরে রাখতে না পারলে  চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খূব জরুরি ।গাড়ি দুর্ঘটনার মতো আঘাতজনিত ব্যথা হলে বা এর সাথে যদি তীব্র বুকে ব্যথা হয় যা হার্টের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসার প্রয়োজন পরে।

পিঠে ব্যথা অবহেলা করলে বা চিকিৎসা না নিলে বিভিন্ন জটিলতার দিকে যেতে পারে। ব্যাথা স্থায়ী হতে পারে, ব্যথার চিকিৎসা না করার ফলে চলাচলের গতি কমে যেতে পারে এবং  মাংসপেশীর নমনীয়তা কমে যেতে পারে, পেশীর দুর্বলতা এবং অ্যাট্রোফি বা পেশী শুকিয়ে যেতে পারে এবং এর জন্য স্নায়ুর বা নার্ভের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে, স্পাইনাল কর্ডে চাপ পরতে  পারে  মেরুদণ্ডের সমস্যা হতে পারে। অনেকদিনের ব্যথা মানুষিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, যার মধ্যে বিষন্নতা, উদ্বেগ এবং জীবনের মান কমে যেতে পারে। উপরন্তু, ব্যথা এড়াতে অস্বাভাবিক ভাবে মুভমেন্ট বা চলাফেরা করলে  শরীরের  অন্যান্য অংশের ক্ষতি এবং ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ হতে পারে।

পিঠে ব্যথার জটিলতা সমূহ 

  • নিউরলজিকাল লক্ষণঃ তীব্র ব্যথা ঝিন-ঝিন, ভার-ভার,অবশ-অবশ,বা জ্বালাপোড়া বা শরীরের শক্তি কমে যাওয়া এই লক্ষন গুলো স্ট্রোক বা নার্ভের সমস্যা এর ধারণা দেয়।
  • মূত্রাশয় বা অন্ত্রের দুর্বলতাঃযদি প্রসাব এবং পায়খানা ধরে রাখতে কষ্ট হয় বা ধরে  রাখতে না পারে।
  • ওজন হ্রাসঃ হঠাৎ কোন কারন ছারাই যদি ওজন কমে যায় তা জটিল স্বাস্থ্যগত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
  • জ্বর এবং ঠান্ডাঃযদি জ্বরের সাথে পিঠের ব্যথা হয়, এটি মেরুদণ্ডের রোগের লক্ষন হতে পারে।
  • ক্যান্সারের ইতিহাসঃ যদি ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে তবে অস্বাভাবিক ভাবে পিঠে ব্যথা হতে পারে।
  • সবসময় তীব্র  ব্যথা হওয়াঃ যে ব্যথা বিশ্রামের সময় একটুও কমে না বা রাতে আরও বেশী খারাপ হয় তা রেড ফ্লাগ হতে পারে এবং পিঠে ব্যথা রোগ হতে পারে।
  • সাম্প্রতিক ট্রমাঃ যদি সম্প্রতি গুরুতরভাবে পিঠে আঘাত পেয়ে থাকেন, যেমন পড়ে যাওয়া বা গাড়ি দুর্ঘটনা, এবং পিঠে ব্যথা অনুভব করেন তবে এটি একটি মেরুদণ্ডের ব্যাথা জনিত রোগ হতে পারে।
  • বয়সঃ বয়স যদি ৫০ বছরের বেশি বা ২০ বছরের কম হয় এবং তীব্র পিঠে ব্যথা অনুভব করে, তবে এটা অস্টিওপরোসিসের লক্ষণ হতে পারে বা কিশোরদের আর্থ্রাইটিসের বা জুভেনাইল আর্থ্রাইটিস  হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • সিস্টেমিক স্টেরয়েড ব্যবহারঃ দীর্ঘমেয়াদী সিস্টেমিক স্টেরয়েড সেবন করলে হাড় দুর্বল হতে পারে এবং পিঠে ব্যথার সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।কেউ যদি পিঠে  ব্যথার সাথে এই (রেড ফ্লাগ)  লক্ষণগুলি অনুভব করে থাকেন তবে যথাযথ তাড়াতাড়ি সম্ভব একজন চিকিৎসক এর  সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ। 

আরও পড়ুনঃ পিঠে ব্যথা হওয়ার কারণ

সময়মত চিকিৎসার  গুরুত্ব

এই সমস্যাগুলির জন্য সময়মত চিকিৎসক এর পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় এবং দ্রুত চিকিৎসা নেয়া ব্যাথার  দীর্ঘমেয়াদী  ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে পারে। উদাহরণস্বরূপ ইনফ্লামেশন জনিত রোগ ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে পারে এবং স্নায়ু বা নার্ভ চাপ লাগলে দ্রুত নার্ভের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে পারে। 

পিঠের ব্যথা কমানোর সহজ ৬ উপায়

১. বিশ্রাম নেয়াঃ পিঠে ব্যথার অনেক ক্ষেত্রেই সহজে ঘরোয়া উপায়ে কিছুটা প্রতীকার কারা যেতে পারে। বিশ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ব্যথার প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে দীর্ঘ সময় বিশ্রামে থাকা যাবে না কারণ এটি পিঠে ব্যথাকে আরও খারাপ করতে পারে। ব্যথা আরও খারাপ করে এমন কাজ কর্ম গুলি এড়িয়ে চলা লাগবে ,ব্যাথা এড়াতে নিয়মিত হাঁটা এবং চলাফেরা করতে হবে।

২. গরম এবং ঠান্ডা সেক দেওয়াঃ প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে দিনে ৩-৪ বার ২০ মিনিট করে ঠান্ডা সেক দিন, কয়েকদিন পর, গরম সেক দিন।

৩. এক্সারসাইজঃ নিয়মিত এক্সারসাইজ মানষিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে, রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে, হাড় এবং পেশী শক্তিশালী করতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতাকে উন্নত করতে পারে। ফিটনেস ভালো রাখার জন্য নিয়মিত এক্সারসাইজ এবং খেলাধুলা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পিঠে ব্যাথা রোধ করতে আমারা ভিবিন্ন ধরনের এক্সারসাইজ করতে পারি যেমনঃ

  • ওয়াল এক্সটেনশন এক্সারসাইজঃ বাসায় ঘরের কোনে সোজা হয়ে দাড়িয়ে দুই হাত দুইপাশের দেয়ালে রেখে বুক সামনের দিকে নিয়ে আসুন এবং ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন, এই ভাবে ১০ বার করে দিনে ৩ বেলা করুন।
  • ব্যাক এক্সটেনশন এক্সারসাইজঃ উপুর হয়ে বা বুকের উপর শুয়ে হাত দুইটা কাধ বরাবর রেখে মাথাসহ বুক উপরের দিকে তুলুন কিন্তু কোমড় উঠানো যাবে না, এই অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এই ভাবে ১০ বার করে দিনে ৩ বেলা করুন।

৪. সঠিক ভাবে বস্তু উঠানোর কৌশলঃ নিচু জায়গা থেকে কোন বস্তু উঠানোর সময় কোমর বেঁকে নয় বরং মেরুদন্ড সোজা রেখে হাঁটু বেঁকে বস্তুটি মাটি থেকে তুলুন। উত্তোলনের সময় আপনার শরীর মোচড়ানো এড়িয়ে চলুন।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুনঃ অতিরিক্ত ওজন আপনার পিঠে আরও চাপ দেয়। তাই নিজের ওজন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন।

৬. স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টঃ অতিরিক্ত স্ট্রেস আপনার মাসল স্পাজম করতে পারে যার ফলে ব্যথা হতে পারে। অতিরিক্ত চাপে পেশীতে ক্র্যাম্প হতে পারে। শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, ধ্যান, যোগব্যায়াম বা তাই চি-এর মতো স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট কৌশল স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করতে পারে। উপরন্তু, পর্যাপ্ত ঘুমানো এবং অবসর সময় খেলাধুলা করা, স্ট্রেস ও মানসিক চাপ কমাতে পারে এবং ফলস্বরূপ, পীঠে ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। পিঠে ব্যথার সমস্যা হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সচেতনতা এবং উপুযুক্ত চিকিৎসা এমনকি প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে রোগীরা কেবল মাত্র পিঠের ব্যথা কার্যকরভাবে কমাতে পারে না বরং প্রতিরোধের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপও নিতে হবে। 

আরও পড়ুনঃ পিঠে ব্যথার ব্যায়াম

পিঠে ব্যথা হলে কেন আপনি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিবেন

পিঠে ব্যথা হলে কেন আপনি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিবেন
  • ব্যথা উপশমঃ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় ম্যানুয়াল ও মেনুপুলেশন থেরাপিসহ বিভিন্ন ধরনের কৌশল বাবহার করে মেকানিক্যাল কারেকশন করা হয় যার করনে ব্যাথা দ্রুত কমে যায় এবং ভবিষ্যতে এ ব্যাথা হওয়ার প্রবনতা থাকে না। 
  • চলাচলের গতি এবং নমনীয়তা বৃদ্ধিঃ এক্সারসাইজিং থেরাপী শরীরের নমনীয়তা এবং চলাফেরার গতি বাড়ায়, যা ব্যাথা কমাতে এবং পিঠের নড়াচড়া উন্নত করে।
  • পেশী শক্তিশালীকরণঃ নিদিষ্ট কিছু এক্সারসাইজ মেরুদণ্ডকে ভালো রাখে এবং পেশীগুলিকে শক্তিশালী করে তোলে, যা পিঠের ব্যথাকে প্রতিরোধ করতে পারে এবং ব্যথা কমায়।
  • পোশ্চার কারেকশনঃ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে বসা এবং দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গির কারেকশন হয়। যার ফলে এলোমেলো ভঙ্গিতে অর্থাৎ পেট ভাজ করে কুজো হয়ে বসলে বা দাড়ালে যে ব্যথা হতো সেটা পুরোপুরিই সেড়ে যায়।

আপনার রোগের জন্য সবচেয়ে উত্তম চিকিৎসা পেতে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র

  1. Standaert, C.J., Weinstein, S.M. and Rumpeltes, J., 2008. Evidence-informed management of chronic low back pain with lumbar stabilization exercises. The spine journal, 8(1), pp.114-120. https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S1529943007009096
  2. Kinkade, S., 2007. Evaluation and treatment of acute low back pain. American family physician, 75(8), pp.1181-1188. https://www.aafp.org/pubs/afp/issues/2007/0415/p1181.html
  3. Kalichman, L. and Hunter, D.J., 2008. The genetics of intervertebral disc degeneration. Familial predisposition and heritability estimation. Joint bone spine, 75(4), pp.383-387. https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S1297319X08000596
  4. Weinstein, S.L., Dolan, L.A., Cheng, J.C., Danielsson, A. and Morcuende, J.A., 2008. Adolescent idiopathic scoliosis. The lancet, 371(9623), pp.1527-1537. https://www.thelancet.com/journals/lancet/article/PIIS0140673608606583/fulltext
  5. Braun, J. and Sieper, J., 2007. Ankylosing spondylitis. The Lancet, 369(9570), pp.1379-1390. https://www.thelancet.com/article/S0140-6736(07)60635-7/abstract
  6. Owen, N., Healy, G.N., Matthews, C.E. and Dunstan, D.W., 2010. Too much sitting: the population-health science of sedentary behavior. Exercise and sport sciences reviews, 38(3), p.105. https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3404815/
Follow me

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This field is required.

This field is required.

পরামর্শ নিতে 01975451525