ডায়াবেটিস একটি অতি পরিচিত রোগ এবং এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, এমনকি এটি এখন মহামারির পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উল্লেখ করেছে। এই অসুখ মানব শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রণালীকে প্রভাবিত করে তাই এর সময়মত চিহ্নিতকরণ, নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্টের জন্য তিনটি মূল কারক – ‘ডায়েট’, ‘ড্রাগ’ এবং ‘ডিসিপ্লিন’ অত্যন্ত জরুরি।

এখানে আমরা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সুষম খাদ্য তালিকা কেমন হওয়া উচিত তা আলোচনা করব, যা তাদের রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। সঠিক ডায়েট মানে হল নির্দিষ্ট পুষ্টিগুণ মেনে খাবার গ্রহণ করা, যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ড্রাগ মানে ডায়াবেটিসের ঔষধের সঠিক এবং নিয়মিত গ্রহণ এবং ডিসিপ্লিন হল নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অনুশীলন।

ডায়াবেটিস কি?

ডায়াবেটিস কি?

ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা মানুষের মেটাবলিজম বা শরীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপকে বিঘ্নিত করে। এই রোগের মূল সমস্যা হলো শরীর যথাযথভাবে ইনসুলিন উৎপাদন করতে বা ব্যবহার করতে পারে না। ফলে খাদ্য থেকে উৎপন্ন গ্লুকোজ বা চিনি রক্তে জমা হয় এবং এর ফলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়।

খাবার খাওয়ার পর, আমাদের শরীরের অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন নামক হরমোন নিঃসৃত করে, যা কোষগুলোকে গ্লুকোজ গ্রহণ করার নির্দেশ দেয়। এই গ্লুকোজ শরীরের জ্বালানি হিসাবে কাজ করে। যখন অগ্ন্যাশয় প্রয়োজনীয় ইনসুলিন উৎপাদন করতে ব্যর্থ হয় অথবা শরীরের কোষগুলি ইনসুলিনের প্রতি ঠিকমতো সাড়া দেয় না, তখন ডায়াবেটিস হয়।

রক্তে চিনির মাত্রা বেশি হলে নানা রকম উপসর্গ প্রকাশ পায়, যেমন বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া, দুর্বলতা, ক্ষত দেরিতে সারা, রক্তনালী ও স্নায়ুতে ক্ষতি, পায়ের পচন, স্নায়বিক অনুভূতির হ্রাস, এবং স্ট্রোক বা মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি। এই রোগের নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসা না করা হলে, রোগীর শারীরিক স্বাস্থ্য এবং জীবনমান গুরুতরভাবে প্রভাবিত হয়।

ডায়াবেটিস ৪ ধরনের হয়ে থাকেঃ টাইপ-১, টাইপ-২, গেস্টেশনাল ও অন্যান্য।

টাইপডায়াবেটিসঃ

টাইপ-১ ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের সব ইনসুলিন নষ্ট হয়ে যায়। তাদের যদি আলাদা ভাবে ইনসুলিন দেওয়া না হয়, তাহলে তারা মারা যেতে পারে। প্রায় ৫-১০ শতাংশ মানুষ টাইপ-১ ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত হয়।

টাইপডায়াবেটিসঃ

যাদের শরীরে ইনসুলিন আছে কিন্তু সেটা কাজ করতে পারছে না। তখন আমরা যে খাবারই খাই না কেন তা গ্লুকোজ হিসেবে শরীরে জমে যায়,এটাই টাইপ-২ ডায়াবেটিস। প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ মানুষ এ ডায়াবেটেসে আক্রান্ত।

গেস্টেশনালডায়াবেটিসঃ

এটি সাধারণত গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে পাওয়া যায়। গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে, প্লাসেন্টার কিছু হরমোন ইনসুলিন প্রতিরোধের জন্য দায়ী।বেশিরভাগ মহিলাই প্রসব পরবর্তী স্বাভাবিক গ্লুকোজ সহনশীলতায় ফিরে আসেন কিন্তু পরবর্তী জীবনে ডায়াবেটিস হওয়ার যথেষ্ট ঝুঁকি (30-60%) থাকে। প্রায় ২-৫ শতাংশ মানুষ এ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়।

অন্যান্যটাইপডায়াবেটিসঃ

রক্তে শর্করার কোন বৃদ্ধি পায় না (হাইপারগ্লাইসেমিয়া)। এটি হলে প্রচণ্ড তৃষ্ণার অনুভূতি পায় এবং কম অ্যান্টি-ডাইউরেটিক হরমোন নিঃসরণের কারণে অতিরিক্ত প্রস্রাব তৈরি হয়। অ্যান্টি-ডাইউরেটিক হরমোন ভ্যাসোপ্রেসিনের নিঃসরণ কমে যাওয়ায় প্রস্রাবের চরম উৎপাদন হয়। এটি প্রায় ১-২ শতাংশ মানুষের হয়ে থাকে।

আরও পড়ুনঃ ডায়াবেটিস এর লক্ষণ গুলো জেনে নিন

ডায়াবেটিসের সাথে খাবারের সম্পর্কঃ

ডায়াবেটিসের সাথে খাবারের সম্পর্কঃ

ডায়াবেটিস হলো একটি ম্যানেজেবল কিন্তু অনিরাময়যোগ্য রোগ। যদিও এর পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নয়, তবে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে, যা সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনে সহায়ক। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে ওষুধ সেবন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ একটি প্রধান উপাদান যা ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মানে এমন খাদ্য নির্বাচন করা, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং একই সঙ্গে পুষ্টির প্রয়োজন পূরণ করে। খাদ্যের পরিমাণ নির্ধারণও একই ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিমাণে এবং নির্দিষ্ট সময়ে খাদ্য গ্রহণ করা শরীরের ইনসুলিনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে কাজ করতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, এমন কিছু খাবার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাকঃ

১।খেজুরঃ খেজুরের মধুর স্বাদ অনেককে বিভ্রান্ত করে যে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি অনুপযুক্ত। অথচ বাস্তবে, খেজুরে থাকা উচ্চ ফাইবার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ফাইবার শরীরে গ্লুকোজের শোষণ ধীর করে, যা রক্তে সুগারের মাত্রাকে স্থির রাখতে সাহায্য করে। আঙ্গুর, কমলালেবু বা ফুলকপির চেয়ে খেজুরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি থাকে, যা শরীরে ক্ষতিকারক মুক্ত র‌্যাডিকেলগুলি নির্মূল করে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নতি সাধন করে। এই কারণে, খেজুর ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এবং ম্যানেজমেন্টে একটি উপকারী খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে, এর সেবনের পরিমাণ হওয়া উচিত সীমিত এবং ডায়েটের অন্যান্য দিকগুলিও মাথায় রেখে এটি খাওয়া উচিত।

২।তিসিঃ তিসি, যা ইংরেজিতে ফ্ল্যাক্সসিড নামে পরিচিত, একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর বীজ যা মানব স্বাস্থ্যে বিভিন্ন উপকার নিয়ে আসে। তিসি বীজে উচ্চ পরিমাণে ফাইবার, ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড থাকে। এই বীজগুলি বিশেষ করে ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্টে খুবই কার্যকর, কারণ এগুলি রক্তে চিনির মাত্রা হ্রাস করে এবং এর স্থায়ীত্ব বৃদ্ধি করে। তিসি বীজ খাওয়ার একটি ভালো উপায় হল বীজগুলিকে গুঁড়া করে নিয়ে তা পানিতে মিশিয়ে পান করা। প্রতিদিন দুই গ্লাস পানিতে তিন চা চামচ তিসি বীজের গুঁড়া মিশিয়ে সেবন করলে এটি রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। এর ফাইবার সামগ্রী পাচন প্রক্রিয়াকে স্বাস্থ্যকর করে এবং দীর্ঘমেয়াদে রক্তে চিনির স্তর স্থির রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া, ওমেগা ফ্যাটি এসিডগুলি হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য উন্নতি সাধনে অবদান রাখে।

৩।দুধঃদুধ একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার, যা ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি’র উৎকৃষ্ট উৎস। এর পুষ্টি উপাদানগুলি ডায়াবেটিস আক্রান্তদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী, কারণ এগুলি হাড়ের স্বাস্থ্য এবং শরীরের সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। যারা দুধ থেকে পেটে গ্যাসের সমস্যা অনুভব করেন, তারা ফ্যাটহীন দুধ বা দুগ্ধজাত অন্যান্য খাবার যেমন টকদই গ্রহণ করতে পারেন যা পেটের সমস্যা কমাতে সাহায্য করবে। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারগুলি সকালের নাস্তায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়, যা দিনের শুরুতে পুষ্টির একটি ভালো উৎস সরবরাহ করে। দুধ বা টকদইয়ের মতো দুগ্ধজাত পণ্যগুলি স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন এবং আবশ্যক খনিজের জোগান দেয় যা দিনের শুরুতে শক্তি ও সতেজতা বজায় রাখতে সহায়ক।

৪।তুলসীঃতুলসী, একটি ঔষধি উদ্ভিদ, যাকে প্রায়ই ডায়াবেটিসের জন্য ‘প্রাকৃতিক ইনসুলিন’ বলা হয়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে তার উপকারিতা দেখায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে তুলসীপাতা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে এবং ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এর জন্য, তুলসীপাতার রস খালি পেটে সেবন করা অনুশীলিত হয়, যা রক্তের চিনির স্তর হ্রাস পায়। আপনি যদি তুলসীপাতার রসের স্বাদ পছন্দ করেন না, তাহলে তা চা বা অন্য কোনো পানীয়ের সাথে মিশিয়ে সেবন করা যেতে পারে। এটি রক্তে শর্করার স্তর স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি শরীরের সামগ্রিক প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের সরবরাহ নিশ্চিত করে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

৫।মটরশুঁটিঃ মটরশুঁটি, যা ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের প্রতিরোধে একটি প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এবং হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনে সহায়তা করে। প্রতিদিন প্রায় ২০০ গ্রাম মটরশুঁটি খাওয়া টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো অবস্থার ঝুঁকি কমাতে পারে। মটরশুঁটি দেশে প্রায় সারা বছর পাওয়া যায় এবং মওসুমে এগুলো কিনে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যেতে পারে, যাতে সারা বছর এর উপকারিতা পাওয়া যায়। মটরশুঁটি বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়, যেমন তেলাকুচা পাতা বা ফল সবজির মতো অথবা মেথি চূর্ণ হিসেবে। এগুলি প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন, এবং খনিজের ভালো উৎস হিসেবে কাজ করে, যা স্বাস্থ্যকর ডায়েটের একটি অংশ হতে পারে। এই সবজির নিয়মিত সেবন শরীরের মেটাবলিজম উন্নত করে, রক্তে চিনি ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য উন্নত করে।

ডায়াবেটিসের সুষম খাদ্য গ্রহনের উপকারিতাঃ

ডায়াবেটিসের সুষম খাদ্য গ্রহনের উপকারিতা

সুষম খাদ্য আমাদের শরীরকে পুষ্ট ও সক্রিয় রাখে এবং দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। এটি শারীরিক কার্যকলাপের দক্ষতা বৃদ্ধি করে, অপুষ্টি ও অতিরিক্ত ওজন এড়ানোতে সহায়ক এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা নিশ্চিত করে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সুষম খাদ্যের গুরুত্ব অনেক বেশি।

এই খাদ্যাভ্যাস বিভিন্ন পুষ্টিজনিত রোগ, বৃদ্ধাবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অল্পবয়সীদের মধ্যে অকালমৃত্যু রোধে সহায়ক। হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা সহ অন্যান্য নানা রোগের ঝুঁকি কমাতে সুষম খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত কার্যকর। এটি না শুধু রোগের সাথে লড়াই করতে সাহায্য করে, বরং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিশ্চিত করে।

সুষম খাদ্য নিয়মিত গ্রহণ না করলে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যার মধ্যে রয়েছে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার। সুষম খাদ্যাভ্যাস এই রোগগুলির প্রতিরোধ করতে এবং একটি সক্রিয় ও সুস্থ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ প্রস্রাবে ইনফেকশনের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

সুষম খাদ্য গ্রহণের তালিকাঃ

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সুষম খাদ্যের মানদণ্ড অনুযায়ী তাদের দৈনিক খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ও ফ্যাটের সুষম বন্টন অপরিহার্য। এই সুষম বন্টনের অধীনে, মোট ক্যালরির ৫০% কার্বোহাইড্রেট থেকে, ২০% প্রোটিন থেকে এবং ৩০% ফ্যাট থেকে আসা উচিত।

১। কার্বোহাইড্রেট: মানব দেহের শক্তির মূল উৎস হচ্ছে কার্বোহাইড্রেট। কার্বোহাইড্রেট দ্রুত এবং কার্যকরী শক্তি যোগান দেয় এবং শরীরের কোষের গঠনে সহায়তা করে। যদিও ডায়াবেটিস রোগীদের কার্বোহাইড্রেট সেবনে সতর্ক থাকতে হয়, তবুও তাদের কার্বোহাইড্রেটের জন্য কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত খাবার যেমন সবজি, ফল এবং সম্পূর্ণ শস্য জাতীয় খাবার গ্রহণ করা উচিত।

২। প্রোটিন: প্রোটিন মানব শরীরের কোষ গঠনে ও মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডায়াবেটিস রোগীরা উদ্ভিদ এবং প্রাণীজ উৎস থেকে প্রোটিন গ্রহণ করতে পারেন, যা কোষ পুনর্জীবন ও মেরামতে সহায়ক। ভালো প্রোটিন উৎস হল লিন মিট, মাছ, ডাল, টক দই এবং নাটস।

৩। ফ্যাট: চর্বি শরীরের ক্রিয়াকলাপের জন্য অপরিহার্য এবং এটি শক্তির দীর্ঘস্থায়ী উৎস। ডায়াবেটিস রোগীদের স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যেমন অলিভ ওয়েল, বাদাম এবং ফ্যাটি মাছ খাওয়া উচিত। তবে, ট্রান্স ফ্যাট এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট এড়িয়ে চলা উচিত।

৪। পানীয়: পানি মানব দেহের জন্য জীবনের উৎস এবং এটি দেহের সব কোষের সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। ডায়াবেটিস রোগীদের পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত, যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডিহাইড্রেশন এড়াতে সাহায্য করে।

প্রয়োজনীয় ক্যালোরিঃ

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য দৈনিক ক্যালোরি ও পুষ্টি গ্রহণের নির্দেশিকা নিম্নরূপ:

  • মধ্যবয়সী অথবা প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে, দৈনিক প্রয়োজনীয় ক্যালোরির পরিমাণ হলো ১০০০ থেকে ১৬০০ কিলোক্যালরি।
  • বয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য দৈনিক ক্যালোরির প্রয়োজন হলো ১৪০০ থেকে ১৮০০ কিলোক্যালরি।
  • যুবক অথবা তরুণ ডায়াবেটিস রোগীরা দৈনিক ১৮০০ থেকে ৩০০০ কিলোক্যালরি পর্যন্ত গ্রহণ করতে পারেন।
  • কার্বোহাইড্রেটের দৈনিক গ্রহণের পরিমাণ হতে হবে প্রায় ১৮০ গ্রাম, যা মোট ক্যালোরির প্রায় ৫০% হিসেবে নির্ধারিত হয়।
  • প্রতিদিনের প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ হওয়া উচিত ৬০ থেকে ১১০ গ্রাম, যা মোট ক্যালোরির প্রায় ২০%।
  • ফ্যাট গ্রহণের পরিমাণ দৈনিক ৫০ থেকে ১৫০ গ্রাম হতে হবে, যা মোট ক্যালোরির প্রায় ৩০%।

এই নির্দেশিকাগুলি ডায়াবেটিস রোগীদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে এবং তাদের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে সহায়তা করতে অপরিহার্য।

ডায়াবেটিস রোগীর ডায়েট চার্টঃ

সকালের নাস্তা (সকাল ৭.৩০টা–৮ টা)দুপুরের খাবার (দুপুর ১.৩০টা–২টা)বিকেলের নাস্তা (বিকেল ৫.৩০টা–৬টা)রাতের খাবার (রাত ৯টা–৯.৩০টা
১।রুটিঃ ১টা গমের আটার রুটি (মিডিয়াম)১।ভাতঃ দেড় কাপ ভাত১।সিজনাল ফলঃ পছন্দমত ১ সারভিং সিজনাল ফল১।রুটি অথবা ভাতঃ ১/২ কাপ ভাত অথবা ১ টা আটার রুটি
২।দুধঃ ১ গ্লাস ফ্যাট ছাড়া দুধ বা স্কিম মিল্ক২।মাছ বা মাংশঃ ৬০ গ্রাম পরিমাণ রান্না করা মাছ বা মাংস (ফ্যাট ছাড়া)২।বাদাম, বুট এবং কলাই জাতীয় খাদ্যঃ   ১/৪ কাপ বাদাম বা বুট বা কলাই জাতীয় খাদ্য২।মাছ অথবা মাংসঃ ৬০ গ্রাম পরিমাণ রান্না করা মাছ বা মাংস (ফ্যাট ছাড়া)
৩।ডিমঃ ১ টা মুরগী অথবা হাঁসের ডিম (সিদ্ধ অথবা ভাঁজি)৩।শাক সবজিঃ ১ কাপ পাতা যুক্ত শাক খাকবে অবশ্যই, বাকী দেড় কাপ অন্যান্য সবজি৩।শাক সবজিঃ কাপ পাতা যুক্ত শাক খাকবে অবশ্যই, বাকী আধা কাপ অন্যান্য সবজি
৪।শাক সবজিঃ ১ কাপ পাতা যুক্ত শাক বা ১/২ কাপ সবজি৪।ডালঃ ১ কাপ মাঝারি ঘন ডাল৪।সিজনাল ফলঃ ১ সারভিং সিজনাল ফল

পাশাপাশি, আপনার শারীরিক চাহিদা এবং অবস্থানুযায়ী একটি কাস্টমাইজড ডায়েট প্ল্যান তৈরির জন্য একজন পেশাদার ডায়েটিশিয়ানের সাথে পরামর্শ করা উচিত। এছাড়া, সুস্থ শারীরিক অবস্থা বজায় রাখতে এবং সঠিক ফিটনেস লেভেল অর্জনের জন্য একজন পেশাদার ফিজিওথেরাপিস্ট বা এক্সারসাইজ বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা জরুরি।

তথ্যসূত্রঃ

Follow me
Apr 06, 2024

মিনিস্কাস ইনজুরি

মিনিস্কাস ইনজুরি. আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও চলাফেরার জন্য হাঁটু শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ…
পরামর্শ নিতে 01975451525